বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হল OBC সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল। সোমবার অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ বিধানসভায় পেশ করেন পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ এবং পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি (তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি ব্যতীত) (সরকারি চাকরি ও পদে সংরক্ষণ) (সংশোধনী) বিল, ২০২৬।
বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে গৌরীশঙ্কর ঘোষ পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ, সংখ্যালঘু তোষণের উদ্দেশ্যেই তৎকালীন সরকার সামাজিক সমীক্ষা ছাড়াই OBC সংরক্ষণ বাড়িয়েছিল। তাঁর দাবি, আগের সরকার বিল নিয়ে যথাযথ আলোচনা করেনি এবং বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে অনগ্রসর শ্রেণি চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি। বর্তমান সরকার প্রকৃত অনগ্রসরদের অধিকার নিশ্চিত করতেই এই সংশোধনী এনেছে বলে জানান তিনি।
বিলের সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী OBC চিহ্নিতকরণের ইতিহাস তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, ১৯৯৩ সালে কমিশন গঠনের পর ১৫ বছরে মোট ৬৬টি জনগোষ্ঠীকে OBC হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, ২০১০ সালে অল্প সময়ের মধ্যে আরও ৪২টি জনগোষ্ঠীকে তালিকাভুক্ত করা হয়, যার মধ্যে ৪১টিই ছিল মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত। এই প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে, বিলের কড়া বিরোধিতা করেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর দাবি, এই সংশোধনী কার্যকর হলে জাতিগত বৈষম্য বাড়বে এবং উচ্চশিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি রঙ্গনাথ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সংরক্ষণ নীতি কার্যকর করার দাবি জানান। বিরোধিতা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ধ্বনিভোটে বিল দু’টি পাশ হয়।







