নিজস্ব প্রতিবেদন: নয়াদিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী একটি ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক ইরান—এই স্পষ্ট বার্তাই দিলেন ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে ভারতকে ভবিষ্যৎ ইরানের অন্যতম প্রধান কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখছে তাঁর শিবির।
পাহলভির বক্তব্য, “একটি গণতান্ত্রিক ইরান সেই সব দেশের সঙ্গেই সর্বোত্তম সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়, যারা অভিন্ন মূল্যবোধে বিশ্বাসী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বে আগ্রহী। ভারত স্বাভাবিক ভাবেই সেই তালিকার একেবারে প্রথম সারিতে থাকবে।” তাঁর মতে, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ভারত ও ইরানের দৃষ্টিভঙ্গিতে মৌলিক মিল রয়েছে।
ইরান-ভারত সম্পর্কের দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন পাহলভি। তিনি স্মরণ করেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁধীর ইরান সফরের প্রসঙ্গ। “তখন আমি খুবই ছোট ছিলাম, কিন্তু সেই সফরই প্রমাণ করে দুই দেশের সম্পর্ক কতটা পুরনো ও গভীর,” বলেন তিনি। সাহিত্য, ভাষা, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক শতাব্দীপ্রাচীন বলেও উল্লেখ করেন নির্বাসিত যুবরাজ।
ভারতের সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভূয়সী প্রশংসা করে পাহলভি বলেন, দুই দেশই নিজেদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব করতে পারে। তাঁর কথায়, “ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার আমাদের কাছে অনুপ্রেরণার। এই ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মিল থেকেই গভীর বন্ধন ও বাস্তব সহযোগিতার স্বাভাবিক পথ তৈরি হতে পারে।”
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও জোর দিয়ে বলেন তিনি। শক্তি সংকট, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও জলসঙ্কটের মতো বৈশ্বিক সমস্যার মোকাবিলায় ভারতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন পাহলভি। নবায়নযোগ্য শক্তি, প্রযুক্তি ও নতুন শিল্পক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।
“একবার ইরান মুক্ত ও গণতান্ত্রিক হলে, তখনই ভারত-ইরান সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায় শুরু করা সম্ভব হবে,” বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান-ভারত সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। সাম্প্রতিক কালে আঞ্চলিক রাজনীতি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি সমীকরণের প্রভাবে সম্পর্কের নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে রেজা পাহলভির মন্তব্যকে কূটনৈতিক মহল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে।







