অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবিরকে ঘিরে ওঠা অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের সরব হলেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মালতী বিশ্বাস নামে এক মহিলার ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এবং থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরকে সামনে রেখে তিনি দাবি করেছেন, ‘সেবাশ্রয়’ এবং ডায়মন্ড হারবার ফুটবল ক্লাবকে ঘিরে একটি বড়সড় প্রতারণার জাল রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত দাবি করেন, সেবাশ্রয় শিবিরে চিকিৎসা ব্যবস্থার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সেখানে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো বা স্বীকৃত চিকিৎসক ছিলেন না। এমনকি অনভিজ্ঞ চিকিৎসাকর্মীদের উপর চাপ সৃষ্টি করে চিকিৎসা করানোর অভিযোগও তোলেন তিনি। এই ঘটনাকে তিনি রাজ্যের ‘থ্রেট কালচার’-এর চরম উদাহরণ বলেও মন্তব্য করেন।
ঋতব্রতের আরও অভিযোগ, সেবাশ্রয়ের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্তে নানা তথ্য উঠে আসছে। তিনি দাবি করেন, এক সহযোগীর গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি ওষুধ উদ্ধারের বিষয়টি সামনে এসেছে। সেই ওষুধের ব্যবহার সেবাশ্রয় শিবিরে হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিন ঋতব্রত একটি ‘দুর্নীতির নেটওয়ার্ক’-এর অভিযোগ তুলে একাধিক নাম ও যোগসূত্রের কথা বলেন। তাঁর দাবি, স্থানীয় স্তরের সম্পত্তি থেকে শুরু করে আর্থিক লেনদেনের সূত্র আন্তর্জাতিক স্তর পর্যন্ত পৌঁছেছে। কেম্যান আইল্যান্ডস, ভানুয়াতু এবং ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের মতো জায়গার নাম উল্লেখ করে তিনি মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগও তোলেন।
তিনি জানান, সমস্ত নথি নিয়ে শীঘ্রই দিল্লিতে দরবার করা হবে এবং রাজ্য বিধানসভাতেও এই বিষয়টি উত্থাপন করবেন। নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে ঋতব্রত বলেন, ‘ধমকানোর দিন শেষ’, এবার তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার সময় এসেছে।
এদিকে ঋতব্রতের এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও এই অভিযোগের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।







