শালবনি জমি জালিয়াতি মামলায় গ্রেফতার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে ঘিরে তদন্তে নতুন মোড়। মেদিনীপুর আদালতে সুমিতকে হেফাজতে চেয়ে CID-এর পেশ করা নথিতে দাবি করা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে এই ঘটনার পিছনে আরও বড় একটি চক্র বা ‘র্যাকেট’ রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
CID-এর দাবি, কথিত ওই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তদন্তকারীদের সহযোগিতা করতে পারেন সুমিত। মামলার আর্থিক লেনদেন এবং টাকার গতিপথ বা ‘মানি ট্রেল’ উদ্ধারের ক্ষেত্রেও তিনি সাহায্য করতে প্রস্তুত বলে আদালতে জমা দেওয়া নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, BNSS-এর ১৮০ ধারায় সুমিতের বয়ান ইতিমধ্যেই রেকর্ড করা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাঁকে মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা হয়। সেখানে তাঁর আইনজীবী জামিনের আবেদন জানাননি। আদালত তাঁকে আট দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে।
এই মামলায় অভিযোগকারী শেখ ইমরানের দাবি, ২০২১ সালে জমি বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি জানতে পারেন, যে জমি বিক্রির কথা বলা হয়েছিল সেটি সরকারি জমি। জাল নথি তৈরি এবং জমির রেকর্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে জমি বিক্রির অভিযোগও ওঠে।
মামলার তদন্তে এর আগে গ্রেফতার হন মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূলের প্রাক্তন সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা। পুলিশ সূত্রের দাবি, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পরই সুমিত রায়ের নাম তদন্তে সামনে আসে। এরপর একাধিক দফায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে CID।
এখন সুমিতের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে কথিত র্যাকেট সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসে কি না, নতুন কোনও নাম তদন্তের আওতায় আসে কি না এবং আর্থিক লেনদেনের সূত্র কোথায় গিয়ে পৌঁছয়—সেদিকেই নজর রয়েছে।







