নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে জমজমাট লড়াইয়ে ব্রাজিল ও মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উত্তেজনায় ভরপুর ম্যাচে দুই দলই নিজেদের শক্তির পরিচয় দিল, তবে শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগ করেই মাঠ ছাড়তে হয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই মরক্কো মাঝমাঠের দখল নিয়ে ব্রাজিলকে চাপে রাখে। আশরাফ হাকিমি ও ব্রাহিম দিয়াজের সমন্বিত আক্রমণে বারবার সমস্যায় পড়ে সেলেসাওদের রক্ষণ। সেই চাপেরই ফল মেলে ২১ মিনিটে। ব্রাহিম দিয়াজের দুর্দান্ত থ্রু পাস ধরে ইসমাইল সাইবারি দ্রুতগতিতে এগিয়ে এসে গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারকে পরাস্ত করে মরক্কোকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
গোল হজমের পর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ব্রাজিল। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সমতা ফেরে। ব্রুনো গিমারায়েসের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু খেলে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর বাঁকানো শট ইয়াসিন বুনোর নাগালের বাইরে চলে যায়। ১-১ সমতায় ফিরেই ম্যাচে আধিপত্য বাড়ায় ব্রাজিল।
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে লুকাস পাকেতার দুর্দান্ত ভলি থেকে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে মরক্কোকে ম্যাচে রাখেন বুনো। দ্বিতীয়ার্ধে মরক্কো রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে কাউন্টার অ্যাটাকে ভরসা করে এবং শেষ ১৫ মিনিটে একাধিক সুযোগও তৈরি করে। তবে অ্যালিসন বেকারের অসাধারণ সেভে ব্রাজিল বিপদমুক্ত থাকে।
অন্যদিকে ম্যাচের শেষ দিকে নুসেইর মাজরাউইয়ের ভুল ব্যাক পাস থেকে ব্রাজিল গোলের সুযোগ পেলেও দ্রুত বেরিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন বুনো। শেষ মুহূর্তে দুই গোলরক্ষকের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়।
বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ড্র করে মরক্কো আবারও প্রমাণ করল যে তারা এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল। অন্যদিকে কার্লো আনচেলোত্তির ব্রাজিলকে বুঝতে হল, বিশ্বকাপ জয়ের পথে প্রতিটি ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।







