বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন ঘিরে দীর্ঘ জল্পনার অবসান হতে চলেছে। সূত্রের খবর, দিল্লির সবুজ সংকেত মিলতেই খুব শিগগির রাজভবনে হতে পারে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভায় একাধিক চমকপ্রদ মুখও থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে রাজনৈতিক মহলে।
গত ৯ মে ২০৮ আসনে ঐতিহাসিক জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে প্রথম দফায় মন্ত্রী হন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, খুদিরাম টুডু ও নিশীথ প্রামাণিক। এরপর প্রায় আড়াই সপ্তাহ ধরে বাকি মন্ত্রিসভার পদ ফাঁকা থাকায় নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল।
রাজ্য বিজেপি সূত্রের দাবি, শুভেন্দু অধিকারী শুরু থেকেই “ধীরে চলো” নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। ক্ষমতায় এসেই প্রশাসনিক বার্তা স্পষ্ট করা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকেই অগ্রাধিকার দেন তিনি। ইতিমধ্যেই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’, আয়ুষ্মান ভারত, ১০০ দিনের কাজ পুনরায় চালু এবং সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছে নতুন সরকার।
সম্ভাব্য মন্ত্রী তালিকায় উঠে আসছে তাপস রায়, স্বপন দাশগুপ্ত, শঙ্কর ঘোষ ও শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের নাম। তবে শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচিতি নয়, এবার মন্ত্রিসভা গঠনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আঞ্চলিক ভারসাম্য, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সামাজিক সমীকরণকে।
দলীয় সূত্রে খবর, বর্তমানে থাকা পাঁচ মন্ত্রীর দফতর পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র-সহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ দফতর নিজের হাতেই রাখতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, “২০৮ জন বিধায়কের মধ্যে থেকে মন্ত্রী বাছাই করা সহজ কাজ নয়। অনেকেরই প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সীমিত। তাই নিখুঁত স্ক্রিনিং করেই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করতে চাইছে দল।”







