খেলাধুলা

এশিয়ান গেমসে সাফল্যের পরও বেতন বঞ্চিত কোচ! বকেয়া না মেটালে চাকরি ছাড়ার হুঁশিয়ারি ডেভ কাজিন্সের

সদ্য শেষ হওয়া এশিয়ান গেমসে দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছে ভারত। তিরন্দাজিতে প্রথমবারের মতো অলিম্পিক কোটা নিশ্চিত করেছে দেশের কম্পাউন্ড আর্চারি দল। কিন্তু এই ঐতিহাসিক সাফল্যের নেপথ্যে যাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, সেই বিদেশি কোচ ডেভ কাজিন্সই গত তিন মাস ধরে বেতন পাননি। দীর্ঘদিন পারিশ্রমিক না মেলায় ক্ষুব্ধ মার্কিন কোচ। দ্রুত বকেয়া মেটানো না হলে দায়িত্ব ছেড়ে দেশে ফিরে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

চলতি বছরের মে মাসে ভারতের চিফ কম্পাউন্ড কোচের দায়িত্ব নেন ৪৯ বছর বয়সি ডেভ কাজিন্স। সূত্রের খবর, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখনও পর্যন্ত তাঁর অ্যাকাউন্টে কোনও পারিশ্রমিক জমা পড়েনি। ফেডারেশন সূত্রে জানা গিয়েছে, টানা তিন মাস বেতন না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট হতাশ কোচ। সংশ্লিষ্ট কর্তাদের তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দ্রুত বকেয়া মেটানো না হলে তিনি আর দায়িত্বে থাকবেন না।

ঘটনাটি সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (SAI) এবং আর্চারি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (AAI)। এএআই-এর কোষাধ্যক্ষ ডঃ জোরিস পাউলোস উম্মাচ্চেরিল জানিয়েছেন, সাইয়ের তরফে একটি সমস্যার কারণেই পেমেন্টে বিলম্ব হয়েছে। তাঁর দাবি, সমস্যা ইতিমধ্যেই মিটে গিয়েছে এবং আগামী দু’দিনের মধ্যেই কোচের বকেয়া পারিশ্রমিক দিয়ে দেওয়া হবে। নয়াদিল্লিতে সাইয়ের এক আধিকারিকও ব্যাঙ্কের প্রযুক্তিগত সমস্যাকেই দেরির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কোচের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছে এবং এক-দু’দিনের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে প্রথমবারের মতো তিরন্দাজির মিক্সড টিম ইভেন্ট থাকছে। সেই লক্ষ্যেই ভারতের কম্পাউন্ড দলকে প্রস্তুত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ১৯৯৯ ও ২০০৩ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডেভ কাজিন্সকে। পূর্বতন কোচ সের্জিও পাগ্নির জায়গায় দায়িত্ব নেওয়ার পরই সাফল্য এনে দেন তিনি।

কাজিন্সের প্রশিক্ষণে সদ্যসমাপ্ত এশিয়ান গেমসে কম্পাউন্ড দল তিনটি সোনা ও একটি ব্রোঞ্জ জিতেছে। রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড মিলিয়ে ভারতীয় তিরন্দাজরা মোট পাঁচটি সোনা, দু’টি রুপো এবং দু’টি ব্রোঞ্জ পেয়েছে।

এর মধ্যে বিশেষ নজর কেড়েছে কম্পাউন্ড মিক্সড ইভেন্টের নতুন জুটি সাহিল যাদব ও চিকিথা তানিপার্থি। ফাইনালে চারটি এন্ড শেষে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ১৫৭-১৫৭ স্কোরে সমতা ছিল। এরপর শ্যুট-অফে দক্ষিণ কোরিয়াকে পরাজিত করে সোনা জিতে নেয় ভারতীয় জুটি। এই জয়ের হাত ধরেই প্রথমবার কম্পাউন্ড আর্চারিতে অলিম্পিক কোটা নিশ্চিত করে ভারত। এছাড়াও ডেভের প্রশিক্ষণেই স্পেনের মাদ্রিদ পর্বে ১৮ বছর বয়সি পৃথিকা প্রদীপ নিজের কেরিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ ব্রোঞ্জ জেতেন।

এশিয়ান গেমসে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ডেভ কাজিন্সের বক্তব্য, তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল অ্যাথলিটদের সম্পূর্ণ প্রস্তুত করে প্রতিযোগিতায় নামানো এবং নিজেদের সেরাটা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা। তাঁর মতে, সঠিক প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি এবং অনুকূল পরিবেশ পেলে ভালো ফলাফল আসবেই। প্রথমবার অলিম্পিকের জন্য কম্পাউন্ড আর্চারিতে কোটা অর্জন করতে পেরে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত বলেও জানান তিনি।

তবে কম্পাউন্ড দলের কোচের পারিশ্রমিক নিয়ে এই বিতর্কের মধ্যেই ২০২৮ অলিম্পিককে সামনে রেখে রিকার্ভ প্রোগ্রামেও বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ভারত। ফেডারেশন সূত্রে খবর, ডিসেম্বরের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ পার্ক চে-সুন ভারতের রিকার্ভ দলের দায়িত্ব নিতে পারেন। তাঁর কোচিংয়েই ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে দক্ষিণ কোরিয়ার মহিলা দল এবং ২০১৬ রিও অলিম্পিকে পুরুষ দল সোনা জিতেছিল। টোকিও অলিম্পিকেও তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন।

ভারতীয় তিরন্দাজি যখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের নতুন নজির তৈরি করছে, ঠিক সেই সময় ডেভ কাজিন্সের মতো সফল বিদেশি কোচের বেতন তিন মাস আটকে থাকার ঘটনা ক্রীড়া প্রশাসনের পেশাদারিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.