দমদমের ‘বিশালদার ইনস্টিটিউট’ নামেই পরিচিত মাস কমিউনিকেশন ও জার্নালিজম প্রতিষ্ঠান এই বছর পড়ুয়াদের শিক্ষামূলক ভ্রমণকে এক নতুন মাত্রা দিল। শুধু আউটডোর স্টাডি নয়, বরং সরাসরি বড়সড় ফিল্ম প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত হলেন মোট ১৩০ জন ছাত্রছাত্রী। পাঁচ দিনের হিমাচল সফরে যোগ দিল শিমলা, মানালি, মান্ডি ও শিসু টাউনের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছবির শুটিং।
ছবির নাম — ‘তবু মনে রেখো’। কাহিনির কেন্দ্রে লিউকিমিয়ায় আক্রান্ত, মাতৃহারা এক কিশোরী, যে নিজের স্বপ্নগুলো পূরণের শেষ চেষ্টা হিসেবে বেরিয়ে পড়ে হিমাচলের পথে। ট্রেন যাত্রা থেকে শুরু করে পাহাড়ি পাড়বাড়ানো দৃশ্য— গল্প এগোয় নানা আবেগঘন মুহূর্তে। ছবিতে রয়েছে প্রেম, টুইস্ট, এবং শেষ পর্যন্ত মেয়েটির ভালোবাসা পূর্ণ হবে কি না— সেই নিয়েই ক্লাইম্যাক্স। ছবির পরিচালনায় রয়েছেন ঝুমা ভৌমিক ও নওয়াজ শরিফ মণ্ডল। প্রযোজনার দায়িত্বে প্রতিষ্ঠানেরই পরিচালক বিশাল পাল।
এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণ। তিন মাসের প্রস্তুতির পর তাঁরা সরাসরি মাঠে নেমে ক্যামেরা, ল্যাপেল, স্ট্যান্ডি সামলেছেন ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের হাড়কাঁপানো ঠান্ডায়। যদিও চ্যালেঞ্জ কম ছিল না, পড়ুয়ারা একসুরে জানিয়েছেন— এই অভিজ্ঞতা তাঁদের শেখার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেছে। শিক্ষকদের পরিচালনায় তাঁরা প্রথমবার বুঝেছেন রিয়েল-টাইম শুটিং-এর চাপ, টেকনিক্যাল ব্যবস্থাপনা, দলগত সমন্বয় এবং চলচ্চিত্র তৈরি হওয়ার বাস্তব প্রক্রিয়া।
ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রসেনজিৎ ঘোষ ও লাবণী পাড়ুই। এছাড়া রয়েছেন রকি, অনিরুদ্ধ ভট্টাচার্য, শুভঙ্কর দাস-সহ অনেকে। ক্যামেরার দায়িত্ব সামলেছেন অভিজিৎ সাহা ও শুভদীপ চট্টোপাধ্যায়।
পরিচালক-প্রযোজকদের দাবি, ছবিটি তৈরি হলে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আর পড়ুয়াদের কথায়— এই প্রকল্প তাঁদের জীবনের প্রথম বাস্তব ফিল্ম-স্কুল, যা তারা কোনওদিন ভুলতে পারবেন না।







