কলকাতা: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিয়োনেল মেসিকে ঘিরে শনিবারের বিশৃঙ্খলা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। আমেরিকার নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে ব্রিটেনের বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ান, স্পেনের মার্কা এবং ফ্রান্সের লা ক্যুইপ—প্রায় সব প্রথম সারির সংবাদপত্রেই জায়গা পেয়েছে কলকাতার এই ঘটনা। আন্তর্জাতিক মঞ্চে শহরের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর শিরোনাম, “অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ও বিশৃঙ্খলার পর লিয়োনেল মেসির ভারত সফরের আয়োজক আটক”। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত এক ঘণ্টার বেশি সময় মাঠে থাকার কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে মেসিকে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই মাঠ ছাড়তে হয়। গ্যালারি থেকে তাঁকে স্পষ্টভাবে দেখাও যায়নি। ওই প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের মন্তব্য এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমা প্রার্থনা ও তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের “আমি কিছু বলব না”—এই মন্তব্যও উদ্ধৃত করেছে সংবাদপত্রটি। পাশাপাশি কলকাতার ফুটবল-সংস্কৃতি এবং ভারতের ক্রিকেট-প্রাধান্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে।
ব্রিটেনের বিবিসি শিরোনাম করেছে, “বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে শুরু লিয়োনেল মেসির ভারত সফর”। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের ঘিরে ধরায় মেসি অস্বস্তিতে পড়েন এবং নিরাপত্তার কারণে দ্রুত মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এর পরই দর্শকদের একাংশ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে—চেয়ার ও বোতল ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। বিবিসি জানায়, কেউ কেউ ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত টিকিট কেটে এসেছিলেন, অথচ গ্যালারির বেশির ভাগ জায়গা থেকেই মেসিকে দেখা যায়নি। মুখ্যমন্ত্রীর “গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তম্ভিত”—এই মন্তব্যও প্রতিবেদনে জায়গা পেয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ান অব্যবস্থাপনাকেই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দর্শকদের ক্ষোভ, আয়োজক শতদ্রু দত্তের গ্রেফতার এবং রাজ্য সরকারের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত—সবই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
স্পেনের ক্রীড়া দৈনিক মার্কা শিরোনাম করেছে “চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা”। তারা লিখেছে, হাজার হাজার টাকা খরচ করে আসা সমর্থকেরা মেসিকে দেখতেই পাননি; ইন্টার মায়ামির ফুটবলার মাত্র ২২ মিনিট মাঠে ছিলেন। ফ্রান্সের লা ক্যুইপ শিরোনাম করেছে “ডিস্টার্বিং”—প্রচারমূলক সফরে এসে ভিড় ও অব্যবস্থার কারণে সমর্থকদের অভিজ্ঞতাকে ‘মর্মান্তিক’ বলে বর্ণনা করেছে পত্রিকাটি।
অনেকের মতে, পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতা দীর্ঘদিন পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এল—কিন্তু ভুল কারণে। যুবভারতীর ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে সিঙ্গুর অধ্যায়কে, যখন টাটা ন্যানো কারখানা সরিয়ে নেওয়ার পর রাজ্য একইভাবে বিশ্ব সংবাদমাধ্যমে জায়গা পেয়েছিল। এবারও প্রশ্ন উঠছে—আন্তর্জাতিক মানের আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় রাজ্য কতটা প্রস্তুত?







