এই বছর ক্রিকেট বিশ্বের সমস্ত নজর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর দিকে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে হতে চলা এই মেগা টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে অংশগ্রহণকারী দলগুলি। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ভারতীয় দল যেমন নতুন পরিকল্পনায় এগোচ্ছে, তেমনই একের পর এক শক্তিশালী দল তাদের স্কোয়াড ঘোষণা করে চমক দিচ্ছে। আফগানিস্তান, ইংল্যান্ডের পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়া এখনও পর্যন্ত মাত্র একবারই ট্রফি জয় করতে পেরেছে। ২০২১ সালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয় অজি বাহিনী। ২০১০ সালে ফাইনালে উঠলেও শিরোপা অধরাই ছিল। শেষ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে দুরন্ত ফর্মে থাকলেও সুপার এইটে ভারতের মতো শক্তিশালী দল এবং আফগানিস্তানের কাছে হেরে ছিটকে যেতে হয় মিচেল মার্শদের।
এবার সেই ব্যর্থতার ক্ষত সারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই মাঠে নামতে প্রস্তুত অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ ডি-তে শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে, ওমান ও আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে রাখা হয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। ১১ ফেব্রুয়ারি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ দিয়েই অভিযান শুরু করবে তারা।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার স্পিন সহায়ক উইকেটের কথা মাথায় রেখেই এবারের স্কোয়াড সাজিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ১৫ সদস্যের দলে স্পিন বিভাগে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক, গত ছয় মাসে দুরন্ত ফর্মে থাকা বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান মিচেল ওয়েনকে দলে রাখা হয়নি। ক্যামেরন গ্রিনের প্রত্যাবর্তন এবং অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মার্কাস স্টোইনিসের উপস্থিতির কারণেই শেষ পর্যন্ত বাদ পড়তে হয়েছে তাঁকে।
আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়, মিচেল স্টার্ক ও স্পেন্সার জনসনের অনুপস্থিতিতে কোনও বাঁ-হাতি পেসার রাখা হয়নি স্কোয়াডে। পরিবর্তে নতুন মুখ হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে অভিষেক হতে চলেছে ম্যাথিউ শর্ট, ম্যাথিউ কুনেম্যান ও জেভিয়ার বার্টলেটের মতো ক্রিকেটারদের। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মেলবন্ধনে গঠিত এই দল কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াড
মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, কুপার কনোলি, প্যাট কামিন্স, টিম ডেভিড, ক্যামেরন গ্রিন, নাথান এলিস, জশ হ্যাজেলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিশ, ম্যাথিউ কুনেম্যান, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ম্যাথিউ শর্ট, মার্কাস স্টোইনিস, অ্যাডাম জাম্পা।
ভারত-শ্রীলঙ্কার মাটিতে এই স্কোয়াড কতটা কার্যকর প্রমাণিত হয়, ফের কি বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে পারবে অস্ট্রেলিয়া—তার উত্তর দেবে আগামী কয়েক সপ্তাহের লড়াই।







