রাজনীতি

২১ জুলাইয়ের আগে ভিড়ের লড়াইয়ে তুঙ্গে তৃণমূলের দুই শিবির, ব্যাজ-কৌশল ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

কলকাতা: ২১ জুলাইয়ের সমাবেশকে সামনে রেখে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে শক্তি প্রদর্শনের লড়াই ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। একদিকে কালীঘাট শিবিরের সভা, অন্যদিকে মেয়ো রোডে তথাকথিত ‘আসল তৃণমূল’-এর কর্মসূচি—দুই পক্ষই এখন জনসমাগমকে রাজনৈতিক বার্তার মূল অস্ত্র হিসেবে দেখছে।

শুক্রবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জেলা ভিত্তিক কর্মী আনার চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। কোন জেলা থেকে কত কর্মী আসবেন, কোন নেতা কতজনের দায়িত্ব নেবেন—তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা।

সূত্রের খবর, জেলা থেকে আসা কর্মীদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্র বা ব্যাজ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিটি জেলার নেতাদের নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যাজ দেওয়া হয়েছে, যাতে সংগঠনের উপস্থিতি ও কর্মীদের পরিচয় সহজে চিহ্নিত করা যায়। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। কালীঘাট ঘনিষ্ঠ মহলের আশঙ্কা, এই ব্যাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই শিবিরের কর্মীদের আলাদা করে শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।

এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমর্থকদের উদ্দেশে সামাজিক মাধ্যমে আহ্বান জানিয়েছেন, দলের পতাকা নয়, শুধুমাত্র দলীয় প্রতীক নিয়েই সভায় যোগ দিতে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বার্তার মধ্যেও কৌশলগত ইঙ্গিত রয়েছে।

দলীয় সূত্রের দাবি, বিভিন্ন জেলা থেকে ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার কর্মী আনার প্রতিশ্রুতি মিলেছে এবং সেই অনুযায়ী ব্যাজ বিতরণও শুরু হয়েছে। এখন নজর ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে—জনসমাগমের নিরিখে কোন শিবির নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির প্রমাণ দিতে পারে, সেটাই হবে বাংলার রাজনীতির পরবর্তী বড় বার্তা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.