রাজনীতি

রাজ্যসভার মঞ্চে ‘অপরিচিত’ থেকে স্ট্র্যাটেজিক পছন্দ — কে এই মেনকা গুরুস্বামী?

শুক্রবার রাতে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই দলের অন্দরে প্রথম প্রশ্ন— কে এই মেনকা গুরুস্বামী?

রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর নাম আগে শোনা যায়নি। কিন্তু আইন ও নীতির লড়াইয়ের অন্দরে তিনি বহুদিনের পরিচিত মুখ।

দলের অন্দরমহলে এখন জোর জল্পনা—
এই মনোনয়ন শুধুই “চমক” নয়, বরং একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক ও আইনি বিনিয়োগ।

হাইকোর্টের সেই মুহূর্ত — যা বদলে দিল দূরত্ব?
১৪ জানুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টে আই-প্যাক মামলার শুনানির দিন।

তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করছিলেন মেনকা গুরুস্বামী।
ইডির তরফে ছিলেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল।

শুনানির সময় মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-কে নাম ধরে উল্লেখ করা হলে, আদালতেই আপত্তি জানান মেনকা।

তিনি স্পষ্ট বলেন—

একজন বহুবার নির্বাচিত মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে শুধু নাম ধরে সম্বোধন করা শোভন নয়। আদালতের ভাষায় পদমর্যাদার সম্মান থাকা উচিত।

এই আগ্রাসী অথচ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান—
নবান্নের শীর্ষস্তরে গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন?
তৃণমূলে আইনজীবী মুখের অভাব নেই।
তবে জাতীয় স্তরের সাংবিধানিক লড়াইয়ে দক্ষ, আন্তর্জাতিক মানের আইনজ্ঞ — এমন মুখ খুব কম।

একসময় Abhishek Manu Singhvi তৃণমূলের সমর্থনে রাজ্যসভায় ছিলেন।

আজ সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে—

বাইরের আইনি পরামর্শ নিতে গেলে যেমন Kapil Sibal-দের মতো আইনজীবীদের মোটা ফি দিতে হয়

তেমন পরিস্থিতিতে নিজস্ব সাংবিধানিক মস্তিষ্ক তৈরি করাই সম্ভবত লক্ষ্য

মেনকা সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারেন বলেই মনে করছে দলীয় নেতৃত্ব।

৩৭৭ ধারা বাতিলে ভূমিকা — জাতীয় পরিচিতির মূল কারণ
মেনকা গুরুস্বামীর সবচেয়ে আলোচিত অবদান—

ঔপনিবেশিক যুগের বিতর্কিত ৩৭৭ ধারা বাতিলের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

এই রায়ে সম্মত সমলিঙ্গ সম্পর্ককে অপরাধের তালিকা থেকে সরিয়ে দেয় Supreme Court of India।

এছাড়াও—

বিচারবহির্ভূত হত্যার মামলায় অ্যামিকাস কিউরি

মানবাধিকার সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে অংশগ্রহণ

বাণিজ্যিক আইন ও হোয়াইট-কলার অপরাধে বিশেষজ্ঞ

আন্তর্জাতিক মঞ্চেও স্বীকৃত মুখ
২০১৯ সালে তিনি জায়গা করে নেন—

Foreign Policy-র ‘১০০ গ্লোবাল থিঙ্কার’ তালিকায়

একই বছরে Time-এর ‘১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তি’ তালিকায়

রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন।
UNICEF-এর উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষা ও একাডেমিক শক্তি
তাঁর শিক্ষাজীবনই তাঁকে আলাদা মাত্রা দেয়—

University of Oxford — রোডস স্কলার

Harvard Law School — গ্যামন ফেলো

Yale Law School — ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি

Columbia Law School — আম্বেদকর রিসার্চ স্কলার

সংবিধান প্রণয়ন, নীতি কাঠামো ও রাষ্ট্র নির্মাণ বিষয়ে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত।

রাজনৈতিক বার্তা কী?
মেনকা গুরুস্বামীর মনোনয়ন থেকে স্পষ্ট—

তৃণমূল শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়
সাংবিধানিক ও আইনি যুদ্ধের প্রস্তুতিও নিচ্ছে

২০২৬-এর আগে দিল্লির মঞ্চে
আইন + রাজনীতি — এই ডুয়াল শক্তির বার্তা দিতেই কি এই পদক্ষেপ?

সময়ের সঙ্গে সেই উত্তর আরও পরিষ্কার হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.