ব্যবসায়িক মন্দা এবং আর্থিক অনটনের জেরে আত্মঘাতী হলেন হাওড়ার উলুবেড়িয়ার এক সোনার দোকানের মালিক। মৃতের নাম সুব্রত দাস (৬৪)। দীর্ঘদিন ধরে খলিশানি মালপাড়ায় সোনার দোকান চালাতেন তিনি। শুধু স্বর্ণব্যবসা নয়, পাশাপাশি করতেন সুদের ব্যবসাও। গ্রামবাসীদের অনেকে নিজেদের জমানো টাকা তার দোকানে রাখতেন ব্যাংকের চেয়ে বেশি সুদের আশায়। আশপাশের প্রায় ১০-১২টি গ্রামের বাসিন্দারা কেউ ৫০ হাজার, কেউ এক লাখ বা তারও বেশি টাকা জমা রেখেছিলেন তাঁর কাছে।
সপ্তাহখানেক আগে তাঁর স্ত্রীও আত্মঘাতী হন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ব্যবসায়িক ক্ষতির খবর শোনার পর সেই মানসিক ধাক্কা সামলাতে না পেরেই তিনি চরম সিদ্ধান্ত নেন। সোমবার সকালে সুব্রত দাসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় তার বাড়ির ছাদ থেকে। রাজাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। তার পকেট থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে, যেখানে তিনি আর্থিক অনটনের কথা উল্লেখ করেছেন।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই, দোকানের সামনে ভিড় জমায় গ্রামবাসীরা—তাঁদের দাবি, তাঁদের পাওনা টাকা ফেরত দিতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মৃতের ছেলে শুভাশিস দাস জানান, মায়ের মৃত্যুর আগে তারা বাবার ব্যবসায় মন্দার কথা জেনেছিলেন, কিন্তু এমন কিছুর আশঙ্কা করেননি। তিনি আরও জানান, শেষের দিকে সুব্রতবাবু লটারি কাটতেন টাকার জন্য।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রাজাপুর থানার পুলিশ। গ্রামজুড়ে শোক ও ক্ষোভের ছায়া।







