রাজ্যে ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। সকল দলই ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রচার শুরু করলেও, এবার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আক্রমণের শান দিচ্ছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের পর একই সুরে সতর্কবার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
“পুলিশ সোজা হয়ে গেলে তৃণমূলের পার্টি অফিস খুলবে না”— কুশমণ্ডি থেকে কড়া বার্তা সুকান্তর
দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডি বিধানসভায় বৃহস্পতিবার রাতে মানিকোর হাইস্কুল মাঠে দলীয় সভায় উপস্থিত হয়ে সরাসরি থানার আইসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সুকান্ত মজুমদার। দাবি করেন, আইসি নাকি তৃণমূল নেতাদের ফোন করে ‘কাজে নামার’ নির্দেশ দিচ্ছেন।
সভামঞ্চ থেকে তাঁকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে সুকান্ত বলেন,
“ইউনিফর্ম পরে যদি তৃণমূল ক্যাডারের মতো কাজ করেন, তবে ইউনিফর্ম ছেড়ে তৃণমূলের ঝান্ডা নিয়ে ভোটে দাঁড়ান। নিরপেক্ষভাবে কাজ না করলে নির্বাচন কমিশন ৩১১ ধারা প্রয়োগ করে আপনাকে বরখাস্ত করতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীও বাঁচাতে পারবেন না।”
‘বউ-বাচ্চা নিয়ে শান্তিতে থাকতে চাইলে নিরপেক্ষ হন’ — মন্ত্রীর পরোক্ষ বার্তা
সুকান্ত মজুমদারের আরও অভিযোগ, প্রশাসনের একটি অংশ নির্বাচনী নিরপেক্ষতা বজায় রাখছে না। তাই আইসি-র প্রতি তাঁর পরামর্শ—
“বউ-বাচ্চা নিয়ে শান্তিতে থাকতে চাইলে, রবিবারে খাসির মাংস–তুলাইপাঞ্জি ভাত খেতে চাইলে নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন। বিজেপির জন্য কাজ করতে হবে না, শুধু সোজা হয়ে কাজ করুন। বাকিটা আমরা বুঝে নেব।”
যোগদান কর্মসূচিতে ভিড়, প্রার্থীকে সমর্থন জানালেন মন্ত্রী
এদিনের সভায় বিজেপি প্রার্থী তাপস চন্দ্র রায় সহ জেলা নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় যোগদান কর্মসূচিও—বিভিন্ন দল থেকে বহু মানুষ বিজেপিতে যোগ দেন বলে দাবি করেন সুকান্ত।
বিজেপির অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা রাজ্যে ভোটের পরিবেশকে বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলছে। কুশমণ্ডি থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই প্রকাশ্য সতর্কবার্তা রাজ্যের রাজনৈতিক আঙিনায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।







