মহারাষ্ট্রের নাসিকে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় শেষ হয়ে গেল এক পুরো পরিবার। শুক্রবার গভীর রাতে দিন্দোরির ইন্দোর গ্রামের কাছে শিবাজী নগর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাড়ি সোজা কুয়োর মধ্যে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৬ শিশু-সহ পরিবারের মোট ৯ জনের। ভোর পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চললেও কাউকেই জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি। ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত প্রায় ১০টা নাগাদ পরিবারটি গাড়ি করে বাড়ি ফিরছিল। অন্ধকারে কুয়োটিকে দেখতে না পেয়ে চালক সরাসরি নিচে নেমে যান। শব্দ শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও দমকলকে।
উদ্ধারকাজে নামানো হয় দুটি বড় ক্রেন। স্থানীয় সাঁতারুরাও সাহায্যে নামলেও গাড়ির ভিতরে আটকে থাকা যাত্রীদের কেউই বাঁচেননি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা সকলকেই মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ মৃতদেহগুলির পরিচয় শনাক্ত করেছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন—
সুনীল দত্তু দরগুড়ে (৩২), রেশমা সুনীল দরগুড়ে (২৭), অনিল দরগুড়ে (৩২), খুশি অনিল দরগুড়ে (১৪), মাধুরী অনিল দরগুড়ে (১৩), শ্রেয়াস অনিল দরগুড়ে (১১), শ্রাবণী অনিল দরগুড়ে (১১), সমৃদ্ধি রাজেন্দ্র দরগুড়ে (৭)— সকলেই একই পরিবারের সদস্য।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উদ্ধারকাজ শুরু হলেও গাড়িটি তুলতে প্রায় দু’ঘণ্টা লেগে যায়। তাঁদের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা নিলে হয়তো কয়েকজনকে বাঁচানো সম্ভব হত। এলাকাবাসীরা আরও অভিযোগ করেছেন, কুয়োর চারপাশে কোনও ব্যারিকেড বা সতর্কীকরণ চিহ্ন নেই, এবং রাস্তায় পর্যাপ্ত আলোও ছিল না।
পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। প্রশাসনের দাবি, আলো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।







