রাজনীতি

শালবনির মঞ্চে ‘বাবরি’ তত্ত্বে তপ্ত ভোট—শাহের নিশানায় মমতা, পাল্টা মেরুকরণের অভিযোগ তৃণমূলের

Amit Shah-এর শালবনির সভা ঘিরে মঙ্গলবার এক ধাক্কায় চড়ল West Bengal Assembly Election 2026-এর পারদ। উত্তরবঙ্গের কার্শিয়াং ও আসানসোলের কুলটির পর পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির জনসভা থেকে রাম মন্দির-বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গ টেনে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-কে আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রসঙ্গ তুলে শাহ বলেন, এক সময় যেখানে বাবরি মসজিদ ছিল, সেখানে এখন ‘আকাশছোঁয়া’ মন্দির দাঁড়িয়ে। তাঁর দাবি, দেশের সর্বত্র ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি শোনা গেলেও বাংলায় উল্টো চিত্র—এখানে ফের ‘বাবরি মসজিদ’ তৈরির চেষ্টা চলছে। এই অভিযোগের নেপথ্যে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তৃণমূল বিধায়ক Humayun Kabir-এর নাম করে শাহের অভিযোগ, “তিনি মমতার ঘনিষ্ঠ। তাঁকে দিয়েই বাংলায় নতুন করে বাবরি মসজিদ তৈরির ছক কষা হচ্ছে।” একই সঙ্গে ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’ বাংলার সংস্কৃতির জন্য হুমকি বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর হুঙ্কার, “৪ মে-র পর বিজেপি সরকার গঠন হলে এই পরিকল্পনা কখনও সফল হতে দেওয়া হবে না।”

শুধু ধর্মীয় ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি শাহ। অনুপ্রবেশ, আইনশৃঙ্খলা ও ‘সিন্ডিকেট রাজ’-এর অভিযোগ তুলে রাজ্যের শাসক দলকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। দাবি করেন, রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে এবং নির্বাচনের ফলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনের অবসান ঘটবে।

অন্যদিকে, শাহের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পাল্টা অভিযোগ, ভোটের মুখে ইচ্ছাকৃতভাবে মেরুকরণের রাজনীতি করতেই এমন প্ররোচনামূলক মন্তব্য করা হচ্ছে। শাসকদলের দাবি, ‘বাবরি’ ইস্যু সামনে এনে বিভাজনের রাজনীতি জোরদার করার চেষ্টা করছে বিজেপি।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি তৃণমূল একটি বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছে, হুমায়ুন কবীর বিজেপির সঙ্গে বিপুল অঙ্কের আর্থিক চুক্তিতে জড়িত এবং সংখ্যালঘু ভোট ভাগের লক্ষ্যেই আলাদা রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করছেন। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, ভিডিওটি ‘অপপ্রচার’। পাশাপাশি তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, তৃণমূলই অন্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে আর্থিক সমঝোতায় তাঁর দল ভাঙার চেষ্টা করেছে।

মুর্শিদাবাদে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করলেও কবীরের দাবি, সেটি সম্পূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক উদ্যোগ—রাজনীতির সঙ্গে তার কোনও যোগ নেই।

ভোটের মুখে এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও ধর্মীয় ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়বে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.