কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চাঞ্চল্যকর পাচারকাণ্ডের পর্দাফাঁস করল স্থানীয় প্রশাসন। সাধারণত বিমানবন্দরে নগদ টাকা, মাদক বা বন্যপ্রাণী পাচারের ঘটনা সামনে এলেও এবার উদ্ধার হল হাজার হাজার জীবন্ত রানী পিঁপড়ে। চিনের নাগরিক ২৭ বছরের ঝাং কেকুন কেনিয়া থেকে নিজের দেশে ফেরার সময় লাগেজে লুকিয়ে প্রায় ২২০০-র বেশি রানী পিঁপড়ে পাচারের চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ পিঁপড়েই আফ্রিকার বিরল হারভেস্টার প্রজাতির। আন্তর্জাতিক বাজারে এই প্রজাতির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পিঁপড়েগুলিকে বিশেষ টেস্ট টিউব ও টিস্যু রোলের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে দীর্ঘ যাত্রাপথেও তারা জীবিত থাকে এবং সহজে সন্দেহ না হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ‘অ্যান্ট কিপিং’ বা পোষ্য হিসেবে পিঁপড়ের কলোনি তৈরির প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে। একটি রানী পিঁপড়ে থেকেই বহু বছরের জন্য গোটা কলোনি গড়ে তোলা সম্ভব হওয়ায় সংগ্রাহকদের কাছে এদের চাহিদা আকাশছোঁয়া। আন্তর্জাতিক কালোবাজারে একটি রানী পিঁপড়ের দাম কয়েকশো ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।
কেনিয়ার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এভাবে বিপুল সংখ্যক রানী পিঁপড়ে সরিয়ে নেওয়া হলে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী আইন ভঙ্গের মামলা দায়ের হয়েছে।







