স্বাস্থ্য

প্রসবের পর হঠাৎ ক্লান্তি, ওজনের বদল? নতুন মায়েদের শরীরে বাসা বাঁধতে পারে থাইরয়েডের সমস্যা, জানুন সতর্কতার লক্ষণ

সন্তান জন্মের পর একজন মায়ের জীবনে আসে একের পর এক শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন। ঘুমের অভাব, ক্লান্তি, মেজাজের পরিবর্তন কিংবা ওজনের ওঠানামাকে অনেক সময় প্রসব-পরবর্তী স্বাভাবিক বিষয় বলেই ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু এর আড়ালেই থাকতে পারে থাইরয়েডের সমস্যা। বিশেষ করে সন্তান জন্মের পর প্রথম এক বছরের মধ্যে কিছু মহিলার পোস্টপার্টাম থাইরয়েডাইটিস দেখা দিতে পারে।

কেন হয় এই সমস্যা?

প্রসবের পর শরীরে হরমোনের বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। এর প্রভাবে কিছু মহিলার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাইরয়েড গ্রন্থিকে আক্রমণ করতে পারে। ফলে প্রথমে থাইরয়েড অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে যায়। এই সময় দ্রুত হৃদস্পন্দন, অস্থিরতা, খিটখিটে মেজাজ কিংবা কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

এরপর অনেকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি উল্টো দিকে যায়। থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন কমে গিয়ে দেখা দিতে পারে হাইপোথাইরয়েডিজম। তখন অতিরিক্ত ক্লান্তি, অবসাদ, কোষ্ঠকাঠিন্য, শুষ্ক ত্বক, ঠান্ডা বেশি লাগা এবং মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কোন লক্ষণগুলোকে অবহেলা করবেন না?

প্রসবের পর দীর্ঘদিন ধরে যদি অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বিষণ্ণতা, ওজনের পরিবর্তন, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা ঠান্ডার প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা থাকে, তাহলে বিষয়টিকে শুধুমাত্র মাতৃত্বের চাপ বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।

দিল্লির মধুকার রেইনবো চিলড্রেনস হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডাঃ সাক্ষী গোয়ালের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এই সমস্যা সময়ের সঙ্গে ঠিক হয়ে যায়। তবে কিছু মহিলার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

কীভাবে ধরা পড়বে?

রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে থাইরয়েডের কার্যকারিতা সম্পর্কে জানা যায়। চিকিৎসকের পরামর্শে টিএসএইচ, ফ্রি টি৪ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী থাইরয়েড অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হতে পারে। দ্রুত রোগ শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও তাড়াতাড়ি শুরু করা সম্ভব।

স্তন্যপান করালে কি সমস্যা?

থাইরয়েডের সমস্যা থাকলেও স্তন্যপান বন্ধ করার প্রয়োজন সবসময় হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উপযুক্ত ওষুধ ব্যবহার করেই থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে নিজের ইচ্ছায় কোনও ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা উচিত নয়।

যেসব মহিলার আগে থেকেই থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, পরিবারে থাইরয়েড বা অটোইমিউন রোগের ইতিহাস রয়েছে, কিংবা আগের সন্তান জন্মের পর পোস্টপার্টাম থাইরয়েডাইটিস হয়েছিল, তাঁদের প্রসবের পর থাইরয়েড পরীক্ষা নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা বিশেষভাবে জরুরি।

নতুন মা হওয়ার পর ক্লান্তি বা শরীরের পরিবর্তনকে সবসময় স্বাভাবিক বলে ধরে নেবেন না। প্রয়োজন হলে সময়মতো পরীক্ষা করান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.