স্বাস্থ্য

ডায়াবিটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে? রোজের পাতে এই ভুলেই নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কিডনি

ডায়াবিটিস ও উচ্চ রক্তচাপ— দু’টি সমস্যাই কিডনির স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। উদ্বেগের বিষয়, প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনির অসুখের অনেক সময় কোনও স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। তাই ওষুধের পাশাপাশি রোজের খাদ্যাভ্যাসেও নজর দেওয়া জরুরি।

**পাতে কতটা নুন থাকছে?**

পুষ্টিবিদদের মতে, কিডনি ভাল রাখতে প্রথমেই কমাতে হবে অতিরিক্ত নুন খাওয়ার অভ্যাস। রান্নায় নুন কম দিলেও আচার, পাঁপড়, নোনতা বাদাম এবং প্যাকেটজাত খাবার থেকে শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম প্রবেশ করতে পারে। এতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়, যা কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এই ধরনের খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়াই ভাল।

**প্রোটিন কি একেবারে বাদ?**

কিডনি সুস্থ রাখতে প্রোটিন পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে কিডনির কার্যক্ষমতা, বয়স, ওজন ও শারীরিক পরিশ্রমের উপর নির্ভর করে প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা বদলায়। ডাল, মাছ, ডিম বা মাংস কতটা খাওয়া উচিত, তা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে ঠিক করা প্রয়োজন। কিডনির অসুখ থাকলে নিজে থেকে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানো বা কমানো ঠিক নয়।

**ভাত, রুটি ও সব্জি কীভাবে খাবেন?**

ডায়াবিটিস থাকলে ভাত ও রুটির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় উপযুক্ত পরিমাণে সব্জি রাখা যেতে পারে। তবে কিডনির অসুখের পর্যায় অনুযায়ী পটাশিয়াম ও ফসফরাসের মতো খনিজের পরিমাণও নিয়ন্ত্রণ করতে হতে পারে। তাই সবার জন্য একই খাদ্যতালিকা উপযুক্ত নয়।

**উপসর্গ না থাকলেও পরীক্ষা জরুরি**

ডায়াবিটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করানো উচিত। রক্তে ক্রিয়েটিনিন, ইজিএফআর এবং প্রস্রাবে অ্যালবুমিন পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনির অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। কত ঘন ঘন পরীক্ষা প্রয়োজন, তা চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

মনে রাখবেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ওষুধ এবং রক্তচাপ ও শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখাই কিডনি সুস্থ রাখার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.