বর্তমান সময়ে দিনের একটা বড় অংশই মোবাইল, কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপের স্ক্রিনের সামনে কাটে বহু মানুষের। আর দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহারের প্রভাব পড়ছে চোখের স্বাস্থ্যে। কখনও মাথাব্যথা, কখনও চোখে জ্বালা বা অস্বস্তি, আবার কখনও দৃষ্টির সামনে হঠাৎ আলোর ঝলকানি দেখা যায়। অনেকেই এই উপসর্গগুলিকে সাধারণ ক্লান্তি বলে মনে করে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু চিকিৎসকদের বক্তব্য, এমন কিছু লক্ষণ দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতা কিংবা চোখের জটিল সমস্যার পূর্বাভাস হতে পারে। তাই সময় থাকতে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
ধর্মশিলা নারায়ণা হাসপাতালের কনসালট্যান্ট অফথ্যালমোলজিস্ট চিকিৎসক দিগ্বিজয় সিংয়ের বক্তব্য, একটানা দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। বিশেষত যাঁদের দৃষ্টিশক্তি আগে থেকেই দুর্বল, তাঁদের স্পষ্টভাবে দেখার জন্য অজান্তেই চোখকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এর ফলে চোখের পেশিতে ক্লান্তি আসে। পাশাপাশি কপাল এবং মাথায় ব্যথার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
শুধু তাই নয়, চশমার পাওয়ার সঠিক না হওয়া কিংবা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার পরেও চশমা ব্যবহার না করার কারণে এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যদিও প্রতিটি মাথাব্যথার পিছনেই যে চোখের সমস্যা দায়ী, তা নয়। তবে মাথাব্যথার পাশাপাশি চোখে যন্ত্রণা অনুভূত হলে চোখের ভিতরের চাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চোখের সামনে আচমকা আলোর ঝলকানি, ছোট ছোট কালো বিন্দু কিংবা বিদ্যুতের রেখার মতো কিছু ভেসে ওঠার পিছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। মাইগ্রেনের ফলেও এমনটা হতে পারে। চিকিৎসা পরিভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় ‘ভিজ্যুয়াল অরা’। অর্থাৎ মাথাব্যথার সঙ্গে দৃষ্টির সামনে আলো ঝলকানো মাইগ্রেনের অন্যতম উপসর্গ হতে পারে।
তবে সব সময় এই সমস্যাকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। রেটিনায় টান লাগলে কিংবা রেটিনা স্বাভাবিক জায়গা থেকে সরে গেলে এমন আলোর ঝলকানি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে আচমকা চোখের সামনে অসংখ্য কালো দাগ ভেসে উঠলে অথবা দৃষ্টির সামনে পর্দা নেমে আসার মতো অনুভূতি হলে সতর্ক হতে হবে। এই পরিস্থিতিতে দেরি না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া জরুরি।
দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হওয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হল—
– দূরের অথবা কাছের কোনও জিনিস পরিষ্কার দেখতে সমস্যা হওয়া।
– বই পড়ার সময় বারবার চোখ কুঁচকে দেখার চেষ্টা করা।
– মোবাইল কিংবা বই চোখের খুব কাছে এনে পড়া।
– চোখে প্রায়ই ক্লান্তি, জ্বালাভাব বা ভারী অনুভূতি হওয়া।
– রাতে গাড়ি চালানোর সময় রাস্তা দেখতে অসুবিধা হওয়া।
– দীর্ঘক্ষণ পড়াশোনা কিংবা স্ক্রিন ব্যবহারের পর মাথাব্যথা শুরু হওয়া।
– কোনও বস্তুকে ঝাপসা অথবা দুটি করে দেখা।
এই ধরনের উপসর্গ নিয়মিত দেখা দিলে দেরি না করে চোখ পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
চোখ ভালো রাখতে কী করবেন?
চোখের সুস্থতা বজায় রাখতে প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা দরকার। বিশেষ করে যাঁদের কাজের প্রয়োজনে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল, কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপ ব্যবহার করতে হয়, তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘২০-২০-২০’ নিয়ম।
এই নিয়মে প্রতি ২০ মিনিট অন্তর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে প্রায় ২০ ফুট দূরে থাকা কোনও বস্তুর দিকে তাকাতে বলা হয়। এতে একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের উপর যে চাপ তৈরি হয়, তা কিছুটা কমাতে সাহায্য করে।







