সময় যত এগোচ্ছে, টেস্ট এবং ওয়ানডে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ধরে রাখা আইসিসি-র জন্য তত বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং পুরনো দিনের ক্রিকেটকে বাঁচাতে ২০২৮ সাল থেকে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)। এছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল সংখ্যা বাড়িয়ে ৩২ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
টেস্ট ক্রিকেটের মান বজায় রাখার জন্য বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকে দু’টি বিভাগে ভাগ করার একটি প্রস্তাব উঠেছিল, যা নিয়ে বেশ আলোচনা চলছিল। কিন্তু নিউজ়িল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার টুসের নেতৃত্বাধীন আইসিসি-র ওয়ার্কিং গ্রুপ গত সপ্তাহে দুবাইয়ে হওয়া বৈঠকে সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে। কারণ, পূর্ণ সদস্য দেশগুলি ইতিমধ্যেই তাদের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় নিয়ে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে, যা ২০২৭-২৯ টেস্ট বিশ্বকাপের চক্রের অন্তর্ভুক্ত হবে।
প্রস্তাব ছিল, ভারত, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে একটি ডিভিশন এবং বাকি দেশগুলিকে নিয়ে আরেকটি ডিভিশন তৈরি করা হবে। এমনকি দুই ডিভিশনের মধ্যে ‘প্রোমোশন’ এবং ‘রেলিগেশন’ রাখার কথাও হয়েছিল।
তবে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ় এবং ইংল্যান্ড এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান রিচার্ড থম্পসন সরাসরি বলেছিলেন, “আমরা এই ধরনের ব্যবস্থা চাই না। যে ভাবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চলছে, সে ভাবেই চলুক। আমরা যদি দ্বিতীয় ডিভিশনে নেমে যাই, তা হলে অস্ট্রেলিয়া বা ভারতের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাব না। প্রথম ডিভিশনের যে কোনও দলের ক্ষেত্রেই এটা হতে পারে। এ ভাবে চলতে পারে না।”সিদ্ধান্ত হয়েছে, এখনকার মতোই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চলবে। আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড এবং জ়িম্বাবোয়েকে নিয়ে ১২ দলের প্রতিযোগিতা হবে। কারণ আইসিসি মনে করে, সব পূর্ণ সদস্য দেশের সমান সুযোগ পাওয়া উচিত।
২০২৩ সালের বিশ্বকাপের পর বাতিল হয়ে গিয়েছিল ওয়ানডে ক্রিকেটের সুপার লিগ। এক দিনের ক্রিকেটকে বাঁচিয়ে রাখতেই আইসিসি সেই সুপার লিগ ২০২৮ সাল থেকে ফের চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কতগুলি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতাটি হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের পর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এছাড়া ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২৪টি দলকে নিয়ে হতে পারে, যা ধীরে ধীরে ৩২ দলে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে আইসিসি-র।







