সারাদিন কাজের ব্যস্ততার মধ্যে তেমন সমস্যা না হলেও রাত বাড়তেই গোড়ালিতে ব্যথা শুরু হয়? অনেকেই এই সমস্যাকে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, রাতের দিকে গোড়ালির ব্যথা বাড়ার পিছনে শুধু দীর্ঘক্ষণ অফিসে বসে থাকা নয়, আরও একাধিক শারীরিক কারণ থাকতে পারে।
অফিসে টানা কয়েক ঘণ্টা এক জায়গায় বসে থাকলে পায়ের পেশি ও লিগামেন্ট শক্ত হয়ে যায়। রক্ত সঞ্চালনও কিছুটা কমে যেতে পারে। দিনের শেষে হাঁটাচলা কম হলে গোড়ালিতে টান, ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, তাঁদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
তবে সব সময় এর জন্য জীবনযাত্রাকেই দায়ী করা যায় না। প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস, অ্যাকিলিস টেন্ডনের প্রদাহ, আর্থ্রাইটিস, ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়া বা পুরনো চোটের কারণেও রাতে গোড়ালির ব্যথা তীব্র হতে পারে। ডায়াবেটিস বা স্নায়ুর সমস্যার ক্ষেত্রেও পায়ে ব্যথা ও জ্বালাভাব দেখা দিতে পারে।
এই সমস্যা কমাতে প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ৫ মিনিট হাঁটাচলা করার চেষ্টা করুন। আরামদায়ক জুতো পরুন, হালকা স্ট্রেচিং করুন এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ব্যথার জায়গায় প্রয়োজনে বরফ সেঁক দেওয়া যেতে পারে। পর্যাপ্ত জল পান করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে যদি গোড়ালির ব্যথা কয়েক দিন ধরে স্থায়ী হয়, হাঁটাচলায় সমস্যা হয়, ফোলা বা লালচে ভাব দেখা দেয় কিংবা রাতে নিয়মিত ব্যথায় ঘুম ভেঙে যায়, তাহলে দেরি না করে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো কারণ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসাও অনেক সহজ হয়।







