মিছিলের অনুমতি না দিলেও শ্রীরামপুরে তৃণমূলের সভা করার অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে সেই সভা করতে হবে জগন্নাথদেবের স্নানপিড়ি ময়দানে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর মাহেশ থেকে শ্রীরামপুর কোর্ট পর্যন্ত যে প্রতিবাদ মিছিলের পরিকল্পনা করেছিল কালীঘাট তৃণমূল, তাতে অনুমতি দেয়নি পুলিশ। পুলিশের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল দল। শেষ পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি অবশ্য মেলেনি।
তৃণমূলের তরফে আদালতে জানানো হয়, নিয়ম মেনেই মিছিলের অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে পুলিশ। এরপর চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদারের মাধ্যমে হাইকোর্টে মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেয় কালীঘাট তৃণমূল। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়।
তৃণমূলের প্রস্তাবিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর মাহেশ থেকে শ্রীরামপুর কোর্ট পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল হওয়ার কথা ছিল। ওই মিছিলে দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। পুলিশের অনুমতি না মেলায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
তবে হাইকোর্টের নির্দেশে মিছিলের বদলে জগন্নাথদেবের স্নানপিড়ি ময়দানে সমাবেশ করার সুযোগ পেল তৃণমূল। রাজনৈতিক পালাবদলের পর কলকাতার বাইরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও মিছিলে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়েই এই কর্মসূচিকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, মমতার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। মিছিল নিয়ে কটাক্ষ করেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর মন্তব্য, “মমতা মিছিল করতে পারেন, হাঁটাচলা শরীরের পক্ষে ভাল।” পাশাপাশি দিল্লিতে গিয়ে ধর্না দেওয়া থেকে শুরু করে মঙ্গলগ্রহ অভিযান—বিভিন্ন প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূল নেত্রীকে আক্রমণ করেন তিনি।
এরই মধ্যে সোমবার শ্রীরামপুর ও রিষড়া থানার পুলিশের যৌথ অভিযানে রিষড়া পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদ হাসানের ঘনিষ্ঠ চার জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না জাহিদ। কালীঘাট তৃণমূলের অভিযোগ, মমতার কর্মসূচির আগে হুগলিতে দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ ধরপাকড় চালাচ্ছে।
ফলে মিছিল নিয়ে পুলিশের আপত্তি থাকলেও আদালতের হস্তক্ষেপে শ্রীরামপুরে তৃণমূলের কর্মসূচির পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এখন নজর ১১ সেপ্টেম্বরের জগন্নাথদেবের স্নানপিড়ি ময়দানের সমাবেশের দিকে।







