প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে তৈরি হয়েছিল আপত্তি। কিন্তু সেই সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক পরিণতি হল ১৭ বছরের এক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীর। অভিযোগ, প্রেমিকের মা ওই কিশোরীকে বাড়িতে গিয়ে মানসিক ভাবে হেনস্থা করেন এবং আত্মহত্যার জন্য প্ররোচনা দেন। ঘটনার জেরে গুজরাটের আমেদাবাদের সারখেজ থেকে ওই মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কিশোরী এবং অভিযুক্ত মহিলার ছেলে একই স্কুলে পড়ত। দু’জনের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। ফোনে নিয়মিত কথাবার্তা ও মেসেজ চলত। কয়েক মাস আগে বিষয়টি জানতে পারে দুই পরিবার। তখন উভয় পক্ষই ছেলে-মেয়েকে পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের দিকে মন দেওয়ার পরামর্শ দেয়।
অভিযোগ, এরপরও তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি স্কুলের মাঠে দু’জনকে একসঙ্গে বসে থাকতে দেখেন প্রিন্সিপাল। বিষয়টি জানানো হয় দুই পরিবারের অভিভাবকদের। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই কিশোরীর বাড়িতে যান অভিযুক্ত মহিলা।
মৃতার বাবার অভিযোগ, সেখানে প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে তাঁর মেয়েকে অপমান ও মানসিক ভাবে হেনস্থা করা হয়। এমনকি তাঁকে বলা হয়েছিল, সত্যিই যদি প্রেমিককে ভালোবাসে, তা হলে যেন গলায় দড়ি দেয়। অভিযোগ, বাড়িতে কেউ না থাকার সময় আত্মহত্যা করার কথাও বলা হয়েছিল।
এর কয়েকদিন পর, ৩১ অগস্ট নিজের বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয় কিশোরী। মেয়ের মৃত্যুর পর সারখেজ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তাঁর বাবা।
তদন্তে পুলিশকে একটি অডিয়ো রেকর্ডিং ও বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, অডিয়োয় অভিযুক্ত মহিলার কথোপকথন রয়েছে এবং সিসিটিভিতে তাঁকে ওই বাড়িতে ঢুকতে দেখা যায়। সেই তথ্য ও অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা রুজু করে পুলিশ।
এরপরই অভিযুক্ত মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে আদালতে তোলা হলে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে আর কোনও বিষয় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।







