কালীপুজোর ঠিক আগেই পশ্চিমবঙ্গে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। রাজ্যের দুই জেলা—বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমানে পৃথক দুটি মেগা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ শক্তিশালী বিস্ফোরক ও বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছেন গোয়েন্দারা।
আজ ভোরে বীরভূমের মুরারই থানার বড়োয়া গোপালপুর গ্রামে প্রথম ধাক্কাটি দেয় বেঙ্গল এসটিএফ। সেখানে এক গোপন ডেরায় হানা দিয়ে উদ্ধার করা হয় ১,১৫০টি জিলেটিন স্টিক, ৯৮৯টি ডিটোনেটর এবং প্রায় ১২,০০০ মিটার লম্বা ডিটোনেটিং কর্ড! এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত করার অভিযোগে মহম্মদ রেজা শেখ ওরফে গুডা এবং মুকেশ সিং নামের দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই মারাত্মক বারুদ কোনো বড় জঙ্গি বা সন্ত্রাসী হামলার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল কি না, তা পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ-এর অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS) খতিয়ে দেখছে。
অন্যদিকে, পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকাতেও বড়সড় সাফল্য পেয়েছে এসটিএফ। গত ৩ ও ৫ নভেম্বর পাণ্ডবেশ্বর এবং জামুড়িয়া থানা এলাকায় ধারাবাহিক তল্লাশি চালিয়ে শেখ সাহাজান নামের এক কুখ্যাত সমাজবিরোধীকে গ্রেফতার করা হয়, যে বেআইনি কয়লা কারবারের সঙ্গে যুক্ত। তার কাছ থেকে ৬টি লম্বা মাস্কেট, ৪টি পিস্তল ও ১১টি পাইপগানসহ মোট ২১টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬৫ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। এই মামলায় আগের দুই ধৃতকে মিলিয়ে এসটিএফ এখনও পর্যন্ত মোট ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১২২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করেছে।
উৎসবের মরশুমে দুই জেলা জুড়ে এই বিপুল যুদ্ধাস্ত্র ও বারুদ উদ্ধার হওয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সুত্রে জানানো হয়েছে, এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং এই অস্ত্র ও বিস্ফোরক ঠিক কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, তা জানতে তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে।







