মাধ্যমিকের পর উচ্চ মাধ্যমিকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে? পড়ুয়ারা কি একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হচ্ছেন না, নাকি মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এবার উদ্যোগী হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। পাশাপাশি, উচ্চ মাধ্যমিকে চালু হওয়া সেমেস্টার পদ্ধতি কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়েও স্কুল শিক্ষকদের মতামত জানতে চাওয়া হবে।
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি অসিত কুমার মণ্ডলের বক্তব্য অনুযায়ী, মাধ্যমিকে যেখানে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী অংশ নেন, সেখানে উচ্চ মাধ্যমিকে সেই সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে কম। কেন এই ব্যবধান তৈরি হচ্ছে, তা বিস্তারিত ভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার পর কতজন পড়ুয়া উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হচ্ছেন না এবং এর পিছনে কী কী কারণ রয়েছে, তা বোঝার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এই পর্যালোচনায় স্কুলছুটের বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে। মাধ্যমিকের পর আর্থিক সমস্যা, পড়াশোনায় অনীহা কিংবা অন্য কোনও কারণে পড়ুয়ারা শিক্ষার মূল স্রোত থেকে সরে যাচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছে সংসদ। তবে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ এখনও চূড়ান্ত ভাবে চিহ্নিত হয়নি।
অন্যদিকে, উচ্চ মাধ্যমিকে সেমেস্টার ব্যবস্থা চালুর পর পড়ুয়া ও শিক্ষকদের অভিজ্ঞতাও জানতে চাইছে সংসদ। নতুন পদ্ধতিতে পড়াশোনা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাঠ্যক্রম শেষ করা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে কী ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে, সে বিষয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হবে। তাঁদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করা হতে পারে।
এদিকে, উচ্চ মাধ্যমিকের উত্তরপত্রের মূল্যায়ন সংক্রান্ত প্রক্রিয়াতেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা। ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের মূল্যায়ন নিয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ফল প্রকাশ নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে অথবা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে হতে পারে বলে খবর।
সব মিলিয়ে, উচ্চ মাধ্যমিকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমার কারণ অনুসন্ধান এবং সেমেস্টার পদ্ধতির সুবিধা-অসুবিধা পর্যালোচনা—এই দুই বিষয়ই আগামী দিনে সংসদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে। তবে এ বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট পরিবর্তন বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা এখনও জানানো হয়নি।







