ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে আজ শুক্রবার সকালে একাধিক ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গেছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, সকাল ৬.৫২ নাগাদ কর্ণাটকের বিজয়পুরা জেলায় ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩.১। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ১৬.৭৭ অক্ষাংশ এবং ৭৪.৮৭ দ্রাঘিমাংশে এবং ১০ কিলোমিটার মাটির গভীরে।
এনসিএস আরও জানিয়েছে, কর্ণাটকের বিজয়পুরা জেলার পাশাপাশি তামিলনাড়ুর চেঙ্গলপাট্টুতে সকাল ৭.৩৯ নাগাদ ৩.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে উত্তর তেলেঙ্গানার জেলায় ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি।
ভূমিকম্পের ফলে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে, কর্ণাটকের বিজয়পুরা জেলায় ভূমিকম্পের ফলে কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভূমিকম্পের কারণ
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিকম্পের কারণ হলো ভারতীয় টেকটোনিক প্লেট এবং অস্ট্রেলীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ। এই সংঘর্ষের ফলে ভারতীয় টেকটোনিক প্লেট উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং অস্ট্রেলীয় টেকটোনিক প্লেট দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই সংঘর্ষের ফলে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়।
ভবিষ্যৎ ভূমিকম্পের ঝুঁকি
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। এই অঞ্চলে ভূমিকম্পের ফলে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাই, এই অঞ্চলের মানুষকে ভূমিকম্পের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পের সময় করণীয়
ভূমিকম্পের সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে:
দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন।
জানালা বা দরজা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন না।
যদি বাইরে থাকেন, তাহলে নিচু জায়গায় বসে পড়ুন।
ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই, বিদ্যুতের তারে হাত দেবেন না।
ভূমিকম্পের পর করণীয়
ভূমিকম্পের পর নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে:
বাইরে থাকলে, ভবন বা গাড়ির নিচে আশ্রয় নিন।
যদি ভবন ধসে পড়ে, তাহলে ধ্বংসাবশেষ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করুন।
যদি বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকে, তাহলে মোমবাতি বা টর্চলাইট দিয়ে আলো জ্বালান।
আহত ব্যক্তিদের সাহায্য করুন।
ভূমিকম্পের সময় এবং পরবর্তী সময়ে সতর্কতা অবলম্বন করলে প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।







