আবারও বড়সড় অভিযান চালিয়ে সাফল্য পেল মোদী সরকার। দেশজুড়ে শুরু হয়েছে অপারেশন ‘রেজ-পিল’। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-এর নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমেছে নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB)। সেই অভিযানে প্রথমবার ভারতের মাটি থেকে উদ্ধার হল তথাকথিত ‘জিহাদি ড্রাগ’ ক্যাপ্টাগন। উদ্ধার হওয়া মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ১৮২ কোটি টাকা।
৭ অক্টোবর ২০২৩-এ দক্ষিণ ইজরায়েলে হামলার আগে হামাস জঙ্গিদের এই ড্রাগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ২০২৪ সালের মস্কো হামলা এবং ২০১৫ সালের প্যারিস হামলাতেও ISIS জঙ্গিদের এই মাদক ব্যবহারের কথা সামনে আসে। তদন্তকারীদের মতে, ভয়ংকর হামলার আগে জঙ্গিদের মধ্যে এই ড্রাগ ব্যবহার করা হত যাতে তারা দীর্ঘক্ষণ ক্লান্তিহীন ও নির্মমভাবে আক্রমণ চালাতে পারে।
ক্যাপ্টাগন আসলে ফেনেটিলিন নামের এক ধরনের সিনথেটিক রাসায়নিক। একসময় ADHD, ডিপ্রেশন ও ন্যারকোলেপ্সির চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা হত। কিন্তু আশির দশকের পর থেকেই এর অপব্যবহার ভয়াবহ আকার নেয়। পরে রাষ্ট্রসংঘ এই ড্রাগ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। বর্তমানে পশ্চিম এশিয়া, বিশেষ করে সিরিয়া ও জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে এই মাদক অত্যন্ত জনপ্রিয়।
চিকিৎসকদের দাবি, ক্যাপ্টাগন সেবনের পর মানুষের শরীরে অস্বাভাবিক উদ্দীপনা তৈরি হয়। খিদে, তেষ্টা, ঘুম কিংবা ব্যথার অনুভূতি অনেকটাই কমে যায়। ফলে একজন ব্যক্তি দীর্ঘসময় ধরে হিংসাত্মক কার্যকলাপ চালাতে সক্ষম হয়। সেই কারণেই একে ‘ড্রাগ অফ জিহাদ’ বলেও ডাকা হয়।
NCB সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লি ও গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে অভিযান চালিয়ে ২২৭ কিলোগ্রামেরও বেশি ক্যাপ্টাগন ট্যাবলেট ও পাউডার উদ্ধার হয়েছে। সিরিয়া থেকে ভারত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জেড্ডায় এই মাদক পাচারের পরিকল্পনা ছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। ঘটনায় এক সিরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলেও অনুমান।
এই সাফল্যের জন্য NCB-কে অভিনন্দন জানিয়েছেন Amit Shah। তাঁর বক্তব্য, মাদকের বিরুদ্ধে মোদী সরকারের নীতি ‘জিরো টলারেন্স’। ভারতকে কোনওভাবেই আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের ট্রানজিট রুট হতে দেওয়া হবে না। দেশের নিরাপত্তা ও সমাজকে রক্ষা করতে NCB সর্বদা সতর্ক রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।






