নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: West Bengal Assembly Election 2026-এর প্রথম দফার ভোটের আগে রাজ্যে পরিবহণ ব্যবস্থায় বড়সড় চাপের ইঙ্গিত মিলছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে বিপুল সংখ্যক বেসরকারি বাস অধিগ্রহণের ফলে কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায় সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দফার পাশাপাশি দ্বিতীয় দফা এবং গণনাপর্বের জন্যও প্রচুর বাস প্রয়োজন। সেই কারণেই মঙ্গলবার থেকে রাজ্যজুড়ে বেসরকারি বাস সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। এর জেরে ইতিমধ্যেই বহু রুটে বাসের সংখ্যা কমে এসেছে, যার প্রভাব পড়ছে নিত্যযাত্রীদের উপর।
পরিবহণ মহলের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ভোটকর্মীদের পরিবহণের জন্য প্রায় এক মাস ধরেই ধাপে ধাপে বাস নেওয়া হচ্ছিল। তবে এখন সেই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছনোয় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। শহর কলকাতা থেকে গ্রামাঞ্চল—সব জায়গাতেই বাসের আকাল দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সমস্যা এখানেই থেমে থাকছে না। দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রস্তুতির জন্য আগামী ২৬ এপ্রিল থেকেই সংশ্লিষ্ট বাসগুলিকে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। ফলে প্রথম দফার ভোট শেষ হলেও পরিবহণে স্বাভাবিকতা ফিরবে না। বরং এক দফার চাপ কাটতে না কাটতেই শুরু হবে পরবর্তী দফার প্রস্তুতি।
এদিকে ৪ মে গণনার দিন ঘনিয়ে আসছে। বাস মালিক সংগঠনগুলির মতে, ভোটকর্মীদের ফেরত পৌঁছে দেওয়া এবং প্রশাসনিক কাজ শেষ করতে করতে অন্তত ৬ মে পর্যন্ত বাস পরিষেবা স্বাভাবিক হবে না। অর্থাৎ প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় অস্থিরতা বজায় থাকবে বলেই আশঙ্কা।
সরকারি বাস পরিষেবা চালু থাকলেও, বিপুল যাত্রীচাপ সামলানো তার পক্ষে কঠিন হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী এবং পরীক্ষার্থীরা। শহরতলি ও গ্রামীণ এলাকার বহু মানুষের একমাত্র ভরসা বেসরকারি বাস—সেই পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড়সড় প্রভাব পড়তে চলেছে।
প্রশাসনের তরফে এখনও বিকল্প পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ে স্পষ্ট কোনও ঘোষণা না আসায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে। নির্বাচনী উত্তাপের মাঝে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সংকট এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে উঠেছে।







