দিল্লিতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগ ও ছররা গুলি চালানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। এই ঘটনায় সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, সংসদে ছাত্রদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা শুরুর আগে ২০ জুন দিল্লির রাজপথে ঠিক কী ঘটেছিল, তার স্পষ্ট জবাব দিতে হবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।
রাহুলের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ছররা গুলি এবং পেরেক বসানো লাঠি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই বলপ্রয়োগের নির্দেশ কোথা থেকে এসেছিল, তা নিয়েই কেন্দ্রের কাছে জবাবদিহি চেয়েছে বিরোধীরা।
অমিত শাহকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে রাহুল বলেন, যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই গুলি চালানো হয়ে থাকে, তাহলে তার দায় তাঁকেই নিতে হবে। আর যদি তিনি গোটা ঘটনা সম্পর্কে অবগত না থাকেন, তাহলে সেটি তাঁর প্রশাসনিক ব্যর্থতা। রাহুলের বক্তব্য, দু’টি পরিস্থিতির কোনওটিই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে থাকার পক্ষে যথেষ্ট নয়।
সংসদে আলোচনার আগে বিরোধীদের তরফে একাধিক দাবি সামনে এসেছে। দিল্লির পড়ুয়াদের ওপর বলপ্রয়োগের নির্দেশদাতা সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা, ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমাপ্রার্থনা এবং রাম মন্দিরের ট্রাস্টিদের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত—এই বিষয়গুলিতে জবাবদিহি চেয়েছে বিরোধীরা।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেও পড়ুয়াদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছেন। পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে রাহুল জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনের ওপর যে কোনও ধরনের সরকারি বা পুলিশি হিংসার বিরোধিতা করবে কংগ্রেস।
অন্যদিকে, কেন্দ্রের তরফে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, পড়ুয়াদের সমস্ত সমস্যা নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে সরকার প্রস্তুত। তাঁর দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই বিরোধীদের প্রশ্নের জবাব দেবেন।
তবে বাদল অধিবেশন শুরুর পর থেকেই এই ইস্যুতে সংসদে তৈরি হয়েছে তীব্র অচলাবস্থা। পরিস্থিতি আরও রাজনৈতিক রূপ নেওয়ার মধ্যেই ১০, ১১ ও ১২ অগস্ট সমস্ত কংগ্রেস সাংসদকে সংসদে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়ে হুইপ জারি করেছে দল।







