একদিকে দেশের জার্সি গায়ে মাঠে ঝড় তোলা, অন্যদিকে একরত্তি মেয়ের মুখ দেখা—এই দুই জগৎকে একসুতোয় বাঁধার চেষ্টায় ব্যস্ত লোকেশ রাহুল। ক্রিকেটার রাহুল ও বাবা রাহুল—দুটি সত্তাকে একসঙ্গে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জে নেমেছেন তিনি। জীবনের এই নতুন ইনিংসে রাহুলের দৃঢ়তা যেমন মুগ্ধ করে, তেমনই ছুঁয়ে যায় তাঁর আবেগ।
আইপিএলের আগে মেয়ের জন্ম, অথিয়ার পাশে থাকতে প্রথম ম্যাচ থেকে ছুটি। কিন্তু মেয়ের জন্মের মাত্র দু’দিন পরেই দৌড়াতে হয় দলের দায়িত্বে। সিরিজ চলাকালীন যতবার সময় পেয়েছেন, উড়ে গিয়েছেন মেয়ের কাছে। আবার ম্যাচের জন্য ফিরে এসেছেন। দায়িত্বের এই টানাপোড়েনেই তৈরি হয়েছে রাহুলের এক নতুন অধ্যায়।
শুধু পিতৃত্ব নয়, পেশাদার ক্রিকেটেও নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ়ে ব্যাট হাতে ৫৩২ রান, দুটি শতরান ও দুটি অর্ধশতরান—পরিসংখ্যানই প্রমাণ দিচ্ছে, তিনি জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করতে পেরেছেন নিখুঁতভাবে। ভারত ‘এ’ দলের হয়ে আগেভাগেই ইংল্যান্ডে গিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। জানতেন, মেয়েকে ছেড়ে থাকার কষ্ট সহ্য করতে হবে। তবু নিজের পেশাদারিত্বে কোনও ফাঁক রাখেননি।
স্ত্রী অথিয়ার সহানুভূতি ও সমর্থনকেও কৃতজ্ঞ চিত্তে স্বীকার করেছেন রাহুল। মেয়ে বড় হচ্ছে ক্যামেরার ফ্রেমে, কিন্তু বাবার চোখে সে আজও অদৃশ্য মাঠের সবচেয়ে বড় প্রেরণা। জীবনের ব্যাটিংয়ে রাহুল আপাতত নটআউট।







