১৭৬ বছর ধরে কাচের জারে বন্দি এক ব্যক্তির কাটা মুণ্ড! কে এই ব্যক্তি? কেনই বা বন্দি করে রাখা হয়েছে তার মুণ্ড? এর পিছনে কাহিনি শুনলে চমকে উঠবেন। কী সেই কাহিনি? জেনে নেওয়া যাক।
পৃথিবীর ইতিহাসে অসংখ্য সিরিয়াল কিলারের ভয়ংকর গল্প নিশ্চয়ই শুনেছেন।অনেকের কথা হয়তো পড়েছেন। কিন্তু এই সিরিয়াল কিলারের নির্মমতার গল্প আপনার মনে ভয় ধরিয়ে দেবে। ১৮২ বছর পরেও তার কথা উঠলে মানুষ ভয় পেয়ে যায়। যখনই তার কথা বলা হয় তখনই আতঙ্ক ছড়ায়। টাকা রোজগারের লোভে নিষ্ঠুরতরার সব সীমা অতিক্রম করেছিলেন তিনি। অবশেষে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়, তবে তার মাথা এখনো সংরক্ষণ করা আছে।
এই কাটা মাথাটি পর্তুগালের সিরিয়াল কিলার ডিয়োগো আলভেসের । তিনি ছিলেন একজন পর্তুগিজ ডাকাত এবং সিরিয়াল কিলার যিনি স্পেনের গ্যালিসিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি “দ্য অ্যাকুয়েডাক্ট মার্ডারার” নামে পরিচিত ছিলেন, কারণ তিনি দরিদ্র পথচারীদের ছিনতাই করে এবং তাদের ৬০ মিটার উচ্চতা থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করতেন।
ডিয়োগো আলভেসের অপরাধমূলক কার্যকলাপ শুরু হয় ১৮৩৬ সালে এবং ১৮৩৯ সাল পর্যন্ত চলে, এই সময়ে তিনি প্রায় ৭০ জনকে হত্যা করেন। তিনি ডাকাতি ও রাহাজানির সাথে জড়িত ছিলেন এবং পরে একজন বিখ্যাত ডাক্তারের বাড়িতে চারজনকে হত্যা করাটাই তার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দিয়োগোর তল্লাশি চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আদালতে দিয়োগো স্বীকার করে ৭০ জনকে নিষ্ঠুর ভাবে খুন করেছে সে। তার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
কী ভাবে এত নিষ্ঠুরতার সঙ্গে খুন করত দিয়োগো, তা জানতে উৎসুক হয়ে ওঠে মেডিক্যাল-সার্জিক্যাল স্কুল অব লিসবন-এর বিজ্ঞানীরা। তার মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণা করার জন্য ফাঁসির পর দিয়েগোর মুণ্ড কাটা হয়।
তবে বহু গবেষণার পরও বিজ্ঞানীরা দিয়েগোর নিষ্ঠুরতার রহস্য ভেদ করতে পারেননি। দিয়োগোর সেই মুণ্ডই কাচের জারে সংরক্ষিত করা আছে লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমিক্যাল থিয়েটারে।







