কলকাতারাজ্য

আরজি কর আন্দোলনের প্রতিবাদী চিকিৎসকদের বদলির মামলা নিয়ে রাজ্যকে বড় নির্দেশ আদালতের

আরজি কর কান্ডের পর জুনিয়র চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ আন্দোলনে শামিল হয়েছিল। সেই প্রতিবাদের প্রথম সারিতে ছিলেন দেবাশিস, অনিকেত, আসফাকুল্লা। সম্প্রতি তাঁদের বদলি নিয়ে জোরালো বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই বিতর্ক মামলা দায়ের হয়। এবার সেই মামলাতেই রাজ্যকে বড় নির্দেশ দিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

আরজি কর আন্দোলনের প্রথম সারির ৩ মুখকে আচমকা বদলির ঘটনায় তৈরি হয়েছে চাপান্তর। মামলার শুনানিতে রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, তিন চিকিৎসককে সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে তিন বছরের বন্ডে নিয়োগ করা হয়েছিল। তাঁদের বদলি কোনওভাবেই বেআইনি নয়, কারণ তাঁরা সিভিল সার্ভিসের আওতায় সিভিল পোস্টে নিযুক্ত।

এরপর এই প্রসঙ্গের বিরোধীতায় জুনিয়র ডাক্তারদের আইনজীবী প্রতীক দাবি করেন, এখানে “নিয়োগ” শব্দের অর্থ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি যুক্তি দেন, কাউকে নিয়োগ করা আর কাউকে কোথাও পরিষেবা দেওয়ার জন্য পাঠানো—এই দু’টি ভিন্ন প্রসঙ্গ।

এই প্রেক্ষিতে রাজ্য দাবি করে, সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ আছে ‘সার্ভ দ্য রুরাল পিপল’ ও ‘ওয়ার্ক ফর দ্য হসপিটাল’। সেই নির্দেশ মেনেই চিকিৎসকদের নিযুক্ত করা হয়েছে। তবে এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হননি বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।

এরপর অ্যাডভোকেট জেনারেল চিকিৎসকদের দিয়ে গ্রামীণ এলাকায় পরিষেবা করানোর জন্য সরকারের তরফে কম্পালসরি সার্ভিসের নির্দেশিকা জারি করার বিষয়টাও উত্থাপন করেন আদালতে। তারপরে দুপক্ষের বক্তব্য শুনে চিকিৎসকদের বদলি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগের নথি-সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য রাজ্যকে অবিলম্বে জমা নির্দেশ দেয় মহামান্য আদালত। পরবর্তী শুনানি হবে আগামীতে ৩রা জুলাই।

বদলি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগের নথি-সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য আদালতে জমা দিতে হবে রাজ্যকে। আগামী ৩ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই নথি পেশ করতেই হবে।
এই মামলার রায় কেবল বদলির প্রশ্ন নয়, বরং সরকারি নিয়োগ ও কর্মস্থলের স্বচ্ছতা নিয়েও বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলেই মনে করছেন আইনমহলের একাংশ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.