রাজনৈতিক পালাবদলের পর টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায় প্রথম গিল্ড নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত। শনিবারের পর রবিবারও চলছে ভোটগ্রহণ। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর অসন্তোষের পর এবার মুখ খুললেন দলের আর এক বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, গিল্ডের নির্বাচন নিয়ে বাইরের কারও নির্দেশ দেওয়ার বা হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই।
রবিবার ভোটের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্টুডিওপাড়ায় উপস্থিত হন মিঠুন চক্রবর্তী ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। এর আগে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। রবিবারও নিজের অসন্তোষের কথা জানান তিনি। পাপিয়ার আশঙ্কা, পুরনো দিনের মতো ফের কিছু মানুষের উপর অত্যাচার শুরু হতে পারে। তাঁর কথায়, মিঠুন চক্রবর্তী অনেককেই ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। তাই এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিধায়ক হিসেবে তাঁকেই জবাব দিতে হবে। পাশাপাশি, এখনও বহু মানুষ ভোটের বাইরে রয়েছেন বলে দাবি করে তাঁদের কার্ড দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
পাপিয়ার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রুদ্রনীল ঘোষ নির্বাচন প্রক্রিয়ার কাঠামো ব্যাখ্যা করেন। তাঁর দাবি, এখানে একটি নয়, মোট ২৩টি গিল্ডের নির্বাচন হচ্ছে। প্রতিটি গিল্ড পৃথক ট্রেড ইউনিয়ন সংস্থা হিসেবে কাজ করে। সব মিলিয়ে প্রার্থী রয়েছেন ৩৩৩ জন। তাই এই নির্বাচনে বাইরের কোনও ব্যক্তি ইচ্ছেমতো হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। ভোটার তালিকা তৈরি এবং নির্বাচন সংক্রান্ত নিয়মকানুন দেখভালের দায়িত্ব শ্রম কমিশনের বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, নির্বাচন নিয়ে ওঠা অভিযোগ কার্যত খারিজ করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে। যাঁদের নথিপত্র সঠিক, তাঁদের কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে ভুয়ো কার্ড বা মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে সুযোগ দেওয়া হবে না। আগামী ছ’মাসের মধ্যে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের চেহারা বদলে যাওয়ার আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে টালিগঞ্জের গিল্ড নির্বাচনকে ঘিরে একদিকে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন, অন্যদিকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিতর্ক—দুইয়ের জেরেই সরগরম স্টুডিওপাড়া।






