এবার ফের রাজনীতির ময়দানে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে উঠল বিতর্কের ঝড়। এবার সোনারপুর দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়িকা লাভলি মৈত্রের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। যা নিয়ে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি। সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় বিভিন্ন নথির ছবি প্রকাশ করে লাভলি মৈত্রের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ‘অসঙ্গতি’ প্রকাশ করে কটাক্ষ ছুড়ে দেন শিক্ষা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী।
বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ, লাভলি মৈত্রর শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত তথ্যগুলিতে অনেক জায়গায় বিস্ময়কর গরমিল রয়েছে। পাশাপাশি তিনি আরও দাবি করেন সরকারি নথি অনুযায়ী, লাভলি ২০২০-তে নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি. এ পাশ করেন। তবে তাঁর নির্বাচনী প্রচারপুস্তিকায় লেখা আছে, তিনি সেন্ট পলস কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতক। এমনকি আবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য পরিচিতি পুস্তকে দেখা যাচ্ছে, তিনি ‘গোয়েঙ্কা কলেজ’-এর ছাত্রী—যেখানে আদতেই ইতিহাস বিষয়ে পাঠ্যক্রম নেই।
তবে এই অভিযোগের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিতে দেরি করেননি লাভলি মৈত্র। সোনারপুরের তারকা বিধায়িকা দাবি করেছেন, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এই ধরনের অভিযোগ করছে। পাশাপাশি তৃণমূল দাবি করছে, বিজেপি নেতারা ব্যক্তিগত আক্রমণে নামছেন, কারণ রাজ্যে তারা জনভিত্তি হারাচ্ছে। এই নতুন বিতর্কে ফের উত্তাল রাজ্যে রাজনীতি।
এ প্রসঙ্গে বালুরঘাটে বিজেপির সাংসদ তথা কেন্দ্রে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, “আমি জানতে চেয়েছি সত্যিটা কী? কোনও জায়গায় লেখা হচ্ছে উনি গোয়েঙ্কা কলেজ থেকে ইতিহাসে অনার্স পাস করেছেন, কোনও জায়গায় বলা হচ্ছে, উনি নিজে যা অ্যাফিডেভিট দিয়েছেন, তাতে বলছেন উনি কোনও একটি ওপেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, সেখান থেকে নাকি গ্র্যাজুয়েশন করেছেন। রাজ্য বিধানসভার যে তথ্যসম্ভার সেখানে দেখা যাচ্ছে যে এডুকেশন কোয়ালিফিকেশনের জায়গায় কিছু লেখা নেই। তা এক এক জায়গায় এক একটা কেন? সত্যি কোনটা? সেখানকার মানুষের তো জানার অধিকার আছে যে আমার বিধায়ক বা বিধায়িকা তিনি কতদূর পড়াশুনা করেছেন? বারবার মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা কেন? আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে এটা।”
এ প্রসঙ্গে সোনারপুরের তৃণমূল বিধায়িকা লাভলি মৈত্র জানিয়েছেন, “বিধানসভার কোনও বইতে, সদস্য পরিচিতি বই… সেখানে লেখা আছে নেতাজি সুভাষ ওপেন ইউনিভার্সিটি এবং কলেজ হচ্ছে গোয়েঙ্কা কলেজ। দুর্ভাগ্য যে ওঁর এটা জানা নেই যে প্রত্যেকটা ওপেন ইউনিভার্সিটির একটা করে স্টাডি সেন্টার থাকে। আমার ক্ষেত্রে সেই স্টাডি সেন্টারটা ছিল গোয়েঙ্কা কলেজ। উনি বলছেন কোনও একটা প্রার্থী পরিচিতিতে উনি দেখেছিলেন যে সেন্ট পলস কলেজের উল্লেখ আছে। অবশ্যই। সেটাও ঠিক যে আমি সেন্ট পলস কলেজে পড়তাম। সেখানকার প্রাক্তন ছাত্রী ছিলাম। কিন্তু কোনও কারণে সেন্ট পলস কলেজ থেকে আমি আমার গ্র্যাজুয়েশনটা কমপ্লিট করতে পারিনি আমার প্রফেশনাল রিজনে। আমাকে সেই কলেজটা ছাড়তে হয় তখন। পরবর্তীকালে আমি নেতাজি সুভাষ ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করি।”







