রাজনীতিরাজ্য

বিহারের ভোটার তালিকা বিতর্কে নতুন সংখ্যা, বাংলায় উদ্বেগ তৃণমূলের

বিহারে বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা SIR ঘিরে বিরোধীদের অভিযোগের মাঝেই প্রকাশ্যে এসেছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা যাচ্ছে, একাধিক জেলায় ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের মধ্যে ৬৫-৭০ শতাংশই মহিলা। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গেও একই প্রক্রিয়া চালু হবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পরিসংখ্যান তৃণমূলের জন্য বিশেষ চিন্তার কারণ। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টানা দেড় দশকের জয়ের অন্যতম ভরসা মহিলাদের ভোট। তাই বিহারের অভিজ্ঞতা বাংলায় ঘটলে শাসকদলের ভরসার জায়গায় ধাক্কা লাগতে পারে। যদিও তৃণমূল প্রকাশ্যে উদ্বেগ মানছে না। তাদের বক্তব্য সতর্ক থাকতে হবে, আত্মসন্তুষ্টিতে ভেসে থাকা যাবে না। তবে অন্দরে অনেক নেতা স্বীকার করছেন, বিষয়টি যথেষ্ট চিন্তার। বিশেষত মহিলা এবং সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

বিহারের পটনা, মধুবনী ও পূর্ব চম্পারণ জেলায় সবচেয়ে বেশি নাম মুছে দেওয়া হয়েছে। তিন জেলা মিলিয়ে বাদ গিয়েছে প্রায় ১০.৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম। এর মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা তুলনায় বেশি, এবং বয়সের বিচারে তরুণ প্রজন্মই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এই জেলাগুলিতে অনেক আসনে জয়ের ব্যবধান বাদ যাওয়া নামের চেয়ে কম। অর্থাৎ নাম ফেরত না এলে নির্বাচনী ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে এই বাদ যাওয়া তালিকা।

এদিকে বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, রাজ্যে জন্মহার আর ভোটার বৃদ্ধির হারের মধ্যে অস্বাভাবিক ফারাক রয়েছে। ১০০ জন জন্মালে প্রায় ২৫০ ভোটার তৈরি হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, মৃতদের নাম তালিকায় রয়ে যাওয়া, এক জনের নাম একাধিক জায়গায় থাকা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় ঢুকে পড়াই এর কারণ। অন্যদিকে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের দাবি, বিজেপি আগের মতো কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করাতে পারছে না। তাই এবার ভোটার তালিকায় কারচুপির চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, উদ্বেগ নেই, তবে প্রতিটি বুথে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, মৃত ভোটারদের নাম দীর্ঘদিন ধরে তালিকায় থেকে যাচ্ছে, যা অতীতে সব শাসকদলেরই সুবিধা দিয়েছে। এবার সেই নাম মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। যদিও তৃণমূল মনে করছে, কেবল মৃতদের নাম নয়, নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নাম টার্গেট করেই বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিহারের মতো পরিস্থিতি বাংলায় হলে বিপাকে পড়তে পারে শাসকদল। তবে তৃণমূলের আস্থা, তাদের বুথ-স্তরের সংগঠনই শেষ পর্যন্ত বড় অস্ত্র হয়ে উঠবে। বিরোধীদের পক্ষে সেই শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা এখনও দূরের কথা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.