গুরুগ্রাম: ডেটিং অ্যাপ থেকে পরিচয়, কয়েকদিনের আলাপচারিতায় সম্পর্ক, তারপর লিভ-ইন—সবকিছুই যেন দ্রুত এগোচ্ছিল। কিন্তু সেই সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত ভয়ঙ্কর রূপ নিল। ১৯ বছরের এক তরুণীকে নৃশংসভাবে নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ত্রিপুরার বাসিন্দা ওই তরুণী পড়াশোনার জন্য হরিয়ানার Gurugram-এ এসেছিলেন। সেক্টর ৯ এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তিনি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে শিবম নামে এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। আলাপচারিতা ঘনিষ্ঠতায় গড়ালে কয়েকবার দেখাও করেন দু’জনে। অভিযুক্ত তখন নরেলায় দিদির সঙ্গে থাকতেন এবং কাজের খোঁজ করছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
অল্পদিনের মধ্যেই সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা এবং লিভ-ইন সম্পর্ক শুরু করেন। তরুণীর দাবি, বিয়ের পরিকল্পনাও করেছিলেন দু’জনে। তবে কিছুদিনের মধ্যেই অভিযুক্তের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তিনি। অভিযোগ, শিবম বিনা কারণে সন্দেহ করতেন এবং মানসিক ও শারীরিকভাবে অত্যাচার শুরু করেন।
তরুণীর অভিযোগ অনুযায়ী, অত্যাচার ক্রমশ চরমে ওঠে। তাঁকে ভয় দেখানো, মারধর করা এবং ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে তা ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হত বলে দাবি নির্যাতিতার। বিষয়টি কাউকে জানালে ভিডিও প্রকাশ করা হবে—এমন হুমকিও নাকি দেওয়া হয়েছিল।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অভিযোগ, তরুণীকে মারধর করা হয় এবং গুরুতরভাবে জখম করা হয়। কোনওক্রমে সুযোগ পেয়ে তিনি নিজের মাকে ফোন করে সাহায্য চান। বাংলায় মায়ের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির ভয়াবহতার কথা জানান এবং দ্রুত এসে তাঁকে উদ্ধার করার অনুরোধ করেন।
এরপর তরুণীর মা জরুরি পরিষেবা নম্বর ১১২-এ ফোন করে অভিযোগ জানান। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তরুণীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল প্রমাণ ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনা আবারও ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত সম্পর্ক গড়ে ওঠা এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ও বিপদের আভাস পেলেই দ্রুত আইনি সহায়তা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।







