এ যেন দুর্যোগ নয়, এক ভয়াবহ বাস্তব!
উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার চাতরা পঞ্চায়েতের মির্জাপুর, পাপিলা, কোটালবেড়িয়া, রসুই, পোতাপাড়া সহ একাধিক গ্রামে জলের দাপটে কার্যত স্তব্ধ জনজীবন। হাঁটু থেকে কোমরজল—এমন অবস্থায় অসুস্থ রোগীকে পর্যন্ত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হচ্ছে কলার ভেলায় শুইয়ে। সামাজিক মাধ্যমে সেই দৃশ্য ভাইরাল হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
টানা কয়েকদিনের বর্ষণে চাষের জমি, রাস্তা, এমনকি ঘরবাড়িও জলের তলায়। বাচ্চাদের স্কুলে পৌঁছনো তো দূরের কথা, অনেককেই কাঁধে তুলে নিয়ে যেতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষ কার্যত গৃহবন্দি। ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছে, ঘরে ঢুকে পড়ছে সাপ ও পোকামাকড়।
গ্রামবাসী রওশনারা বিবি বলেন, “আমরা কোথায় যাবো? অসুস্থ মানুষকে নৌকা নেই, কলা গাছের ভেলায় নিতে হচ্ছে হাসপাতালে।”
আনোয়ার মন্ডল বলেন, “বছরের পর বছর ধরে একই ছবি, পঞ্চায়েত জানে, বিধায়ক জানে—কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি।”
রবিউল মিস্ত্রি ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলেন, “চাষ শেষ, বাড়ি ভেঙে পড়ছে, কাজ বন্ধ। ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে এই অবস্থায় কি করে থাকি?”
তবে পঞ্চায়েতের তরফে দায় এড়ানো হয়নি। চাতরা পঞ্চায়েত প্রধান আসলাম উদ্দিন বলেন,
“ইছামতি, যমুনা ও পদ্মা খালে পলি জমে যাওয়ায় জল বেরোতে পারছে না। ইছামতি নদীর সংস্কার শুরু হয়েছে, এরপর যমুনা ও পদ্মা খালের সংস্কারও হবে। সমস্যা স্থায়ীভাবে মিটবে।”
তবে প্রশ্ন উঠছে, প্রতিবছর এই একই পরিস্থিতি তৈরি হলে কেন আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয় না?
এলাকার মানুষের এখন একটাই দাবি—“অবিলম্বে স্থায়ী সমাধান করুক প্রশাসন।”







