কলকাতাক্রাইম

“অন্ধকার নামলেই রুম ভাড়া কাণ্ড, অতিষ্ঠ কলকাতার এক কোণা”

খাস কলকাতার আনন্দপুর যেন একের পর এক রহস্যমৃত্যু ও অস্বাভাবিক ঘটনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে এক তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। মৃতার নাম শ্রেয়া ভার্মা (২৭), বাড়ি পঞ্জাবের লুধিয়ানায়। পেশায় তিনি ছিলেন বার ডান্সার। পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার রাতে শ্রেয়া তাঁর পরিচিত মহম্মদ চাঁদের সঙ্গে আনন্দপুরের একটি গেস্ট হাউসে ওঠেন। সেখানে রাতভর মদ্যপান চলে। সোমবার সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন শ্রেয়া। তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু ঘটনার পর থেকেই তাঁর সঙ্গী মহম্মদ চাঁদ রহস্যজনকভাবে গা-ঢাকা দিয়েছেন।

একই দিনে আরও দু’টি মৃত্যুর ঘটনা আলোড়ন ফেলে আনন্দপুরে। নোনাডাঙার একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় ২১ বছরের গৃহবধূ মৌসুমী মণ্ডলের ঝুলন্ত দেহ। মাত্র এক বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। স্বামী জানিয়েছেন, তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন, ফিরে এসে ঘরের দরজা ভাঙতেই স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। তবে কীভাবে এই মৃত্যু ঘটল, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

অন্যদিকে, এলাকার এক পিকনিক স্পট থেকে উদ্ধার হয় এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির পচাগলা দেহ। ফলে গোটা এলাকায় থমথমে পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছরে আনন্দপুরে পানশালা ও গেস্ট হাউসের সংখ্যা বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অসামাজিক কাজকর্ম। কেউ বলছেন, “রাত হলেই এখানে ছেলেমেয়েদের রুমের চাহিদা বাড়ে।” আবার কারও বক্তব্য, পুলিশের কার্যত নজরদারি নেই, বরং অভিযোগ উঠছে অর্থ নেওয়ার।

এর আগে নোনাডাঙা খাল থেকে উদ্ধার হয়েছিল জোড়া দেহ—রোহিত আগরওয়াল ও রণিতা বৈদ্য নামে দুই তরুণ-তরুণীর। সিসিটিভিতে শেষবার তাঁদের একসঙ্গে দেখা গেলেও, তার পরের ঘটনার কোনও সূত্র এখনও হাতে পায়নি পুলিশ।

একটির পর একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, অবিলম্বে পুলিশি টহল ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আনন্দপুর আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.