রাজ্য

উৎকর্ষ পরীক্ষায় ডাহা ফেল ১৫১টি ওষুধ, আতঙ্কে চিকিৎসক মহল

ওষুধ মানেই ভরসা। অথচ সেই ভরসার ভিত্তিই নড়বড়ে! সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের (CDSCO) সাম্প্রতিকতম পরীক্ষায় গুণমানের পরীক্ষায় ডাহা ফেল করল একসঙ্গে ১৫১টি ওষুধ। কলকাতার সেন্ট্রাল ড্রাগ ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর এই তথ্য।

কোন কোন ওষুধে ভেজাল?
পরীক্ষায় ধরা পড়েছে—

ক্যানসারের জন্য হেপারিন ইনজেকশন (গুজরাটের বড়োদরা থেকে বাংলায় এসেছে)

অ্যাজিথ্রোমাইসিন ট্যাবলেট (Gnosis ফার্মাসিউটিক্যাল, হিমাচল প্রদেশের মগিনান্দ গ্রাম)

সুক্রালফেট সিরাপ (ব্যাচ নম্বর RL2412-10, উত্তরাখণ্ড)

অ্যামোক্সিসিলিন পটাশিয়াম ক্লভুলানেট (ব্যাচ নম্বর BT240754, হিমাচল প্রদেশের সোলান)

অ্যামিকাসিন সালফেট ইনজেকশন (ব্যাচ নম্বর 24AM19, তেলেঙ্গানার সাই প্যারেনটেরালস লিমিটেড)

ডেক্সামিথাসোন ট্যাবলেট (ইউনাইটেড বায়োসিউটিক্যালস, হায়দরাবাদ)

কী বলছে ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ড?
বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সব ওষুধের উপাদান নির্দিষ্ট মাত্রার অনেক নিচে। ফলে রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে রোগীর শরীরে গুরুতর বিপদ ডেকে আনতে পারে। খুচরো ও পাইকারি ওষুধ বিক্রেতাদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— একটিও ভেজাল ব্যাচ দোকানে রাখা চলবে না।

চিকিৎসকদের আতঙ্ক
অ্যান্টিবায়োটিক, ক্যানসার প্রতিরোধক, মূত্রনালি সংক্রমণ ঠেকানোর ইনজেকশন— একের পর এক প্রথম সারির জীবনরক্ষাকারী ওষুধই বাদ গিয়েছে উৎকর্ষ পরীক্ষায়। চিকিৎসকদের মতে, “এমন ওষুধ রোগীর হাতে পৌঁছনো মানে জীবন নিয়ে ছেলেখেলা।”

রাজনীতি ও ওষুধ শিল্পের প্রশ্ন
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ “নট স্ট্যান্ডার্ড কোয়ালিটি” ওষুধই বাংলায় এসেছে ভিনরাজ্য থেকে। যার মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর জন্মভূমি গুজরাটও। প্রশ্ন উঠছে— ওষুধ উৎপাদনে দেশের একাধিক বড় রাজ্য যদি মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে সাধারণ মানুষের হাতে ঠিক কতটা নিরাপদ ওষুধ পৌঁছচ্ছে?

সতর্কবার্তা: ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ড প্রকাশিত তালিকায় নাম থাকা ব্যাচের কোনও ওষুধ যেন কেউ ব্যবহার না করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.