ইরান-মার্কিন সংঘাতের টানা প্রায় পাঁচ সপ্তাহের লড়াইয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে বড় ধাক্কা খেয়েছে মার্কিন বায়ুসেনা। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হামলায় একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে বলে দুই পক্ষই নিশ্চিত করেছে, যা সংঘাতের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইরানের আকাশসীমায় একটি F-15E স্ট্রাইক ঈগল ভূপাতিত হয়েছে। বিমানের এক ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজন এখনও নিখোঁজ। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ইরানের ভেতরেই কোথাও লুকিয়ে রয়েছেন। তাঁকে খুঁজে বের করতে তৎপর হয়েছে ইরান। এদিকে উদ্ধার অভিযানে পাঠানো HH-60W জলি গ্রিন হেলিকপ্টারও হামলার মুখে পড়ে। যদিও সেগুলির ক্রুরা প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। পাশাপাশি, দুটি A-10 ওয়ারথগ যুদ্ধবিমানেও আঘাত হানে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে উপসাগরে পড়ে যায়, অন্যটি গুরুতর ক্ষতি নিয়ে ঘাঁটিতে ফিরতে সক্ষম হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে একটি F-16 যুদ্ধবিমান জরুরি অবতরণে বাধ্য হয় এবং এক বা একাধিক KC-135 রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কারও বিপদ সংকেত জারি করে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একের পর এক এই ঘটনায় মার্কিন বায়ুসেনার ওপর চাপ স্পষ্ট হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রথমবার সংঘাতের শুরু থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের ঘটনা প্রকাশ্যে এল, যা তাদের দীর্ঘদিনের আকাশ আধিপত্যের দাবিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। ইরান ও উপসাগরীয় আকাশসীমা এখন কার্যত উচ্চ-ঝুঁকির যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত ও বিপজ্জনক আকার নিতে পারে বলেই আশঙ্কা বাড়ছে।







