মাথার উপর নির্বাচন, তার মধ্যেই আবার বাইরে থেকে চাপ। আমেরিকার মিডটার্ম নির্বাচনের আবহে ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের জল্পনা তীব্র হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপর চাপ তৈরি করছেন, যাতে ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক অভিযান শুরু করে আমেরিকা। এখন প্রশ্ন, নেতানিয়াহুর এই প্রস্তাবে কি সম্মতি দেবেন ট্রাম্প?
আগামীকাল, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে মিডটার্ম নির্বাচন। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পরই ইরানের বিরুদ্ধে ফের মার্কিন হামলা শুরু করার পক্ষে সওয়াল করছেন নেতানিয়াহু। যদিও ট্রাম্পের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। তেহরানের সঙ্গে যে কূটনৈতিক আলোচনা বর্তমানে চলছে, সেটি আরও কিছুদিন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সূত্রের খবর, গত শনিবার ফোনে কথা হয় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর। সেই কথোপকথনে ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা এবং প্রয়োজনে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা—দুই বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রবিবার ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন যে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে।
এদিকে ইজরায়েলের নির্বাচনের ফল প্রকাশ হলেও কোনও দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠন করতে হলে নেতানিয়াহুকে অন্য কোনও দলের সঙ্গে জোট করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে আরব গোষ্ঠীর উপর চাপ বাড়াতেই ইরানে মার্কিন হামলার পক্ষে নেতানিয়াহু সওয়াল করছেন বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আমেরিকার মিডটার্ম নির্বাচন নিয়েও যথেষ্ট চাপে রয়েছেন ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারে কার্যত ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, এবারের ভোটে রিপাবলিকানরা এমন ফল করবে, যা গোটা বিশ্বকে চমকে দেবে। যদিও বিভিন্ন জনমত সমীক্ষার ফল রিপাবলিকানদের জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়।
গত ৩১ অক্টোবর ওহাইওর রিপাবলিকান প্রার্থীদের হয়ে ভার্চুয়াল প্রচারে অংশ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, এই নির্বাচন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিডটার্ম নির্বাচন। একইসঙ্গে ভোটারদের তাঁকে ব্যালটের প্রার্থী হিসেবেই বিবেচনা করে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, তিনি নির্বাচনের ময়দানে থাকলে ভোটারদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এবারও বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোট দিতে আসবেন এবং সেই সংখ্যা অনেককেই অবাক করবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মিডটার্ম নির্বাচনে সরাসরি প্রেসিডেন্ট পদে ভোট হয় না। আমেরিকার কংগ্রেসের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সেনেটের আসনগুলির জন্য এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফলে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে জয়ী বা পরাজিত হবেন না। বরং তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারে কি না, সেটিই এবারের নির্বাচনের বড় প্রশ্ন।
বর্তমানে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে রিপাবলিকানদের দখলে ২১৮টি আসন। ডেমোক্র্যাটদের রয়েছে ২১৪টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য ডেমোক্র্যাটদের আরও চারটি আসন বাড়াতে হবে। সেনেটে রিপাবলিকানদের হাতে রয়েছে ৫৩টি আসন এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। সেখানে নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের আরও চারটি আসন প্রয়োজন।
সমীক্ষা কী বলছে?
২৬ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের জনমত সমীক্ষায় ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন দেখা গিয়েছে ৩২ শতাংশ। কংগ্রেস নির্বাচনের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৪৭ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছেন ৩৬ শতাংশ।
অর্থাৎ, জনমত সমীক্ষার হিসাবে এই মুহূর্তে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের থেকে এগিয়ে। তবে কোনও জনমত সমীক্ষাই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নিশ্চিত করে না।
এদিকে, ২৭ অক্টোবর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে তিনি ফলাফল মেনে নেবেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেও ইতিমধ্যে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে।







