বিশ্ব

Iran–US Crisis: ট্রাম্পের দাবি খারিজ তেহরানের, ‘স্ট্রাইক বিরতি চাওয়ার প্রশ্নই নেই’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য সরাসরি উড়িয়ে দিল ইরান। মধ্যস্থতাকারীদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, তেহরান নাকি শক্তি পরিকাঠামোয় মার্কিন হামলা ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছে। শুক্রবার সেই দাবি প্রকাশ্যে নাকচ করল ইরান। স্পষ্ট ভাষায় জানাল—হামলা স্থগিতের কোনও অনুরোধ তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।

ট্রাম্পের দাবি বনাম ইরানের বিবৃতি
এক দিন আগেই সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছিলেন,
“ইরান সরকারের অনুরোধ অনুযায়ী শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংসের সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখছি।”
সঙ্গে দাবি করেছিলেন—ওয়াশিংটন–তেহরান আলোচনা “খুব ভালভাবেই এগোচ্ছে।”

কিন্তু শুক্রবার ইরানের বক্তব্য—আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা জারি, এবং স্থগিতাদেশ চাওয়ার কোনও প্রশ্ন ওঠে না।

১৫ দফা পরিকল্পনায় আপত্তি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্র যে ১৫ দফা রূপরেখা পাঠিয়েছে, তার চূড়ান্ত জবাব এখনও দেয়নি ইরান।
তেহরানের প্রধান আপত্তি—

ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আগাম শর্ত

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার দাবি

‘অতিরিক্ত চাপ’ সৃষ্টির অভিযোগ

ইরানের পাল্টা দাবি—

ভবিষ্যতে সামরিক হামলা না করার নিশ্চয়তা

ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ

আঞ্চলিক কাঠামোয় লেবাননের মতো দেশ অন্তর্ভুক্তি

ট্রাম্পের পরিবর্তনশীল অবস্থান
সপ্তাহজুড়ে হুঁশিয়ারি ও বিরতির মধ্যে দোলায়মান ছিল ওয়াশিংটনের সুর।

চুক্তি না হলে চাপ বাড়বে, সতর্ক করেছিলেন ট্রাম্প

কিছুক্ষণের মধ্যেই হামলা স্থগিতের ঘোষণা

পরে ফক্স নিউজ-এ দাবি—ইরান নাকি ‘সাত দিনের বিরতি’ চেয়েছিল

শর্ত না মানলে “ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে”, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মাঠে যুদ্ধস্থল, আকাশে মিসাইল—সংঘাত থামেনি
আশাবাদী রাজনৈতিক বার্তার মধ্যে বাস্তব ছবি আরও উত্তপ্ত।

ইরানের একাধিক ব্যালিস্টিক মিসাইল আঘাত হেনেছে তেল আভিভ, হাইফাসহ বিভিন্ন শহরে

কিছু ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার মিউনিশন ব্যবহারের অভিযোগ—বাড়িঘর, গাড়ির ব্যাপক ক্ষতি

হিজবোল্লার রকেট হামলায় উত্তর ইজরায়েলে মৃত্যু অন্তত ১

পাল্টা জবাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের হামলা ইরানের বান্দার আব্বাস, শিরাজ, ইসফাহান অঞ্চলে

অচলাবস্থা জারি—যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ক্ষীণ
মধ্যস্থতাকারীদের পর্যবেক্ষণ—
দুই দেশই নিজেদের অবস্থানে অনড়।
প্রস্তাব–পাল্টা প্রস্তাব মিললেও মূল সমস্যাগুলি কাঠামোগতভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিরতির অনুরোধ’ করেনি—এই বিষয়টিই বর্তমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভঙ্গুরতা আরও স্পষ্ট করছে।

প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে
হরমুজ উপসাগর উত্তপ্ত হওয়ায় তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে

জাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত

যুক্তরাষ্ট্র বাড়িয়েছে সামরিক উপস্থিতি, মোতায়েন হয়েছে ড্রোনচালিত দ্রুতগামী নৌযান

মোটের উপর—কূটনীতি চললেও বাস্তবে যুদ্ধের আবহ আরও ঘন হচ্ছে।
দুই পক্ষের অবস্থান অপরিবর্তিত। আগামিদিনে সংঘাত আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.