সুদানে ফের ভয়াবহ হামলার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ড্রোন হামলায় শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১১৩ জন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিকাঠামোয় হামলার জেরে রাজধানী খার্তুমের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। হাসপাতাল থেকে বেকারি—জরুরি পরিষেবা সচল রাখতে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে এখন জেনারেটরের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার খার্তুমের উপকণ্ঠে ওমদুরমান এলাকার আল-মারখিয়াত ট্রান্সফর্মার স্টেশনে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এর ফলে রাজধানীর একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিদ্যুৎ সংস্থার এক আধিকারিকের আশঙ্কা, হামলায় খার্তুমের প্রায় ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিদ্যুৎ বণ্টন কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ লাইনেরও ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে। তবে পরিষেবা পুরোপুরি ফিরতে সময় লাগতে পারে। বিদ্যুতের অভাবে জল সরবরাহেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ও জল না থাকায় বিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে ইনসুলিনের মতো প্রয়োজনীয় ওষুধ সংরক্ষণ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, একাধিক বেকারি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রুটির জোগান কমে যাওয়া এবং দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই হামলার জন্য সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ সংস্থার এক আধিকারিক। তবে সুদানের চলমান সংঘাতে বিভিন্ন পক্ষই ড্রোন ব্যবহার করে পরিকাঠামোয় হামলা চালাচ্ছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। দীর্ঘ এই সংঘাতে প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং খাদ্য ও চিকিৎসার সংকট ভয়াবহ আকার নিয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহে নতুন বিপর্যয় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
**তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন:** প্রতিবেদনে শতাধিক মৃত্যুর সঙ্গে খার্তুমের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার তথ্য একসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকাশের আগে দুই ঘটনার স্থান, সময় এবং হতাহতের পরিসংখ্যান আলাদা করে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।







