বিদেশ

শ্রমিকের সমাধি সোনার খনিতে মৃত ১০০

দক্ষিণ আফ্রিকায়, স্টিলফন্টেইনের কাছে বাফেলসফন্টেইন অঞ্চলে একটি অবৈধ সোনার খনিতে আটক হয়ে মৃত ১০০ শ্রমিক। উদ্ধারের সময় জানা যায় মৃত্যুর কারন ক্ষুধা ,তৃষ্ণা।
মোবাইলের মাধ্যমে পাঠানো একটি ভিডিওতে এই ঘটনা প্রকাশ পায়, ওই ভিডিওতে প্লাস্টিকে মুড়ে রাখা মৃত দেহ দেখা যায়।
মাইনিং অ্যাফেক্টেড কমিউনিটিজ ইউনাইটেড ইন অ্যাকশন গ্রুপ জানান, এখন অবধি ২৬ জন শ্রমিককে নিরাপদে বাইরে বের করা সম্ভব হয়েছে এবং ১৮ জনের মৃতদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্র মতে, ওই অবৈধ খনিটির গভীরতা প্রায় ২.৫ কিমি, সেখানে এখনও প্রায় ৫০০ জন শ্রমিক ভিতরে আটকে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। উদ্ধারের কাজ দ্রুত করার চেষ্টা চললেও গভীরতার কারণে কাজের গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে না।
২০২৪শে নভেম্বরে সেখানের পুলিশ একটি খনিতে অবৈধ খননের খবর পায়। তখন প্রায় ৫০০ জন শ্রমিক খনির ভেতরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। পুলিশ সেই শ্রমিকদের বাইরে বের করে আনার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সবাই বাইরে আসেনি। এই ঘটনায়  পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ফলে শ্রমিকরা পুলিশের ভয়ে বাইরে আসতে অস্বীকার করে ।
পুলিশ খনিটিকে সিল করে দেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু সেই সময় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ জানান, শ্রমিকরা গ্রেপ্তারির ভয়ে খনি থেকে শ্রমিকেরা বের হতে চাইছিলেন না। আবার শ্রমিকরা অভিযোগ করে, পুলিশ খনি থেকে বের করানোর জন্য ব্যবহৃত দড়ি সরিয়ে দিয়েছিল, যার ফলে সমস্ত শ্রমিক খনির ভেতরে আটক হয়ে পড়ে । তারপর পুলিশ খনিতে খাবারের সরবরাহও বন্ধ করে দেয়, যাতে শ্রমিকরা বাইরে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়।
পোস্টমর্টেম রিপোর্টে প্রথম মৃত্যুর কারণ হিসেবে ক্ষুধা ও তৃষ্ণাকে উল্লেখ করা হয়েছে। খনিতে জল ও খাবারের সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় কারণে শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.