পারথে প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭ উইকেটে হারের ধাক্কা সামলে ভারতীয় ক্রিকেট দল পা রাখল অ্যাডিলেডে। এই শহরটি পরিচিত ‘সিটি অফ চার্চেস’ নামে, যেখানে গির্জার আধিক্য বেশি। কিন্তু টিম ইন্ডিয়ার আগমনে যেন রাতারাতি শহরটির নাম বদলে গেল—অন্তত ভারতীয় সমর্থকদের কাছে। অ্যাডিলেড এখন যেন ‘সিটি অফ লাইটস’ বা আলোর শহর, যেখানে উৎসবের পরিবেশ। বিমানবন্দর সাক্ষী থাকল ভারতীয় ক্রিকেটারদের প্রতি অনুরাগীদের অকুণ্ঠ ভালোবাসার।
যদিও সাত মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন করা দুই মহাতারকা—রোহিত শর্মা (৮ রান) এবং বিরাট কোহলি (০ রান)প্রথম ওয়ানডেতে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছিলেন, তবুও তাঁদের প্রতি দর্শকদের ভালোবাসায় কোনো ভাটা পড়েনি। এদিন প্রায় শ’খানেক ভারতীয় সমর্থক বিমানবন্দরে ভিড় করেন। ‘ফ্যানস ইন্ডিয়া’ নামের সমর্থক গোষ্ঠী দেশীয় পোশাকে, ব্যানার হাতে হাজির ছিল। অনেকে সজোরে ক্রিকেটারদের ‘শুভ দীপাবলি’ জানিয়ে স্বাগত জানান। সেখানেই দেখা যায় রোহিত শর্মার এক ভক্ত তুষালের সঙ্গে। এটাই রোহিত-বিরাটের শেষ অস্ট্রেলিয়া সফর হতে পারে, এমনটা ভেবেই তুষাল অতিরিক্ত অর্থ জমিয়েছিলেন, যাতে টিম হোটেলের কাছে ঘর নিতে পারেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিশাল পোস্টারে “The Hitman has arrived in Adelaide Oval. My Forever Captain” লেখাতে রোহিতের অটোগ্রাফ নেওয়া। কিন্তু তুষাল অবাক হয়ে দেখেন, বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় রোহিত সেই পোস্টার দেখেই সই করে দেন। অটোগ্রাফ পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত তুষাল বলেন, “ভাবিনি রোহিত দেখামাত্র সই করে দেবেন। আমার এতদিনের অপেক্ষা সার্থক হল।” বিরাট কোহলিকেও ঘিরে তৈরি হয় একাধিক আবেগঘন মুহূর্ত। ভক্তরা ছেঁকে ধরেন তাঁকে। অটোগ্রাফ দেওয়া এবং সেলফি তোলার মাঝেও কোহলি এক খুদে ভক্তকে নিরাশ করেননি। সেই শিশুটি দূর থেকে কাতরভাবে ডাকছিল প্রিয় তারকার কাছে একটি ছবির জন্য। কোহলি তাকে দেখে এগিয়ে এসে শুধু ছবিই তোলেননি, পিঠ চাপড়ে স্নেহের পরশও দেন। এই দৃশ্য দেখে আশপাশের কিছু সমর্থকের আক্ষেপ শোনা যায়, “ইস, আমরাও বাচ্চা হলে ভালো হত!” বিদেশে খেলার কারণে এই দীপাবলির সময় ভারতীয় ক্রিকেটাররা পরিবার থেকে দূরে। কিন্তু অ্যাডিলেডে অনুরাগীদের এই উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং উন্মাদনা দেখেই মনে হয়েছে, এই মুহূর্তে গোটা অ্যাডিলেডই রোহিত-কোহলিদের পরিবারের মতো পাশে দাঁড়িয়ে আছে।







