বহু দিন ধরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগে সুর চড়িয়ে সরব হয়েছেন বাংলার সরকার। ফের একই অভিযোগে সরব হলো রাজ্যের শাসক দল বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অর্থ বহু সময় ধরে আটকে রেখেছে কেন্দ্র সরকার বলে অভিযোগ করেছে রাজ্য। এবার সেই সমস্যার সমাধান করতে বিকল্প পথ অবলম্বন করল রাজ্য সরকার।
১০০ দিনের কাজ হোক কিংবা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা অথবা গ্রামীণ সড়ক প্রকল্প সব ক্ষেত্রেই বকেয়া টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার বলে দাবি নবান্নের। এই বিষয় নিয়ে কেন্দ্রের কাছে বারংবার দাবি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো রকম তৎপরতা দেখা যায়নি। এর আগে ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিল রাজ্য সরকার। তারমধ্যে বছর ঘুরলেই হাই ভোল্টেজ বিধানসভা ভোটে। এবার তার আগেই এক বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। ১৫ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি নতুন রাস্তা তৈরির লক্ষ্যেই নবান্নের এই পদক্ষেপ বলে জানা গেছে।
আগামী এপ্রিলের মধ্যে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ হতে চলেছে। সেই কর্মযজ্ঞ সফল করতেই বরাদ্দ করা হয়েছে কমপক্ষে ৭ হাজার কোটি টাকা। যেটা বহন করা হবে পুরোপুরি রাজ্যের কোষাগার থেকেই। ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েতকে এই প্রকল্পের জন্য নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে নবান্ন।
সোমবার রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতর সমস্ত জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে। বৈঠকে কাজের পোর্টাল ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রথম দফার কাজের ‘ওয়ার্ক অর্ডার’ জারি হতে পারে বলে জানা গেছে।
রাজ্যের ইতিহাসে প্রথম একসঙ্গে এত বড় আকারে রাস্তা নির্মাণ ও মেরামতির অনুমোদন পেতে চলেছে।
গ্রামীণ রাস্তাগুলি চিহ্নিত করার কাজ চলছে বলে জানা গেছে। পাশাপশি মুখ্যমন্ত্রী হেল্পলাইনে আসা অনুরোধ যাচাই করে জেলা প্রশাসনের পাঠানো প্রস্তাবের ভিত্তিতে বলে রাজ্য সরকার সূত্রে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় কেন্দ্রীয় অর্থ না পাওয়ায়, রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল থেকেই এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। বলাই যায় বিধানসভা ভোটের আগে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে উদ্যোগী হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।







