ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ বাঁচানোর কঠিন পরিস্থিতিতে বড়সড় রানের চাপে পড়ল ভারত। গুয়াহাটি টেস্টের দ্বিতীয় দিনে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের প্রথম ইনিংসে ৪৮৯ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে। জবাবে দিনের শেষে ভারত বিনা উইকেটে ৯ রান তুলেছে। টেম্বা বাভুমার দল ভারতকে ৪৮০ রানের লক্ষ্য দিয়েছে।
দ্বিতীয় দিন খেলার শুরুটা ছিল ভারতের জন্য হতাশাজনক। প্রথম দিনের শেষবেলায় কুলদীপ যাদবের স্পেল কিছুটা আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু আজ সেনুরান মুথুস্বামী এবং কাইল ভেরেইন্নে ভারতীয় বোলারদের ধৈর্য ধরে সামলান। চা-বিরতি পর্যন্ত কোনো উইকেট পড়তে দেননি এই দুই ব্যাটার। মুথুস্বামী-ভেরেইন্নে জুটি ৮৮ রান যোগ করেন। অবশেষে ভেরেইন্নে ব্যক্তিগত ৪৫ রানে রবীন্দ্র জাদেজার বলে ঋষভ পন্থের হাতে স্টাম্পড হন।এরপর মার্কো জানসেনের আবির্ভাব পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। একপ্রকার টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাট করে তিনি ভারতীয় বোলিংয়ের ধার নষ্ট করে দেন। একদিকে যখন মুথুস্বামী তাঁর প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি (১০৯ রান) পূর্ণ করছেন, অন্যদিকে জানসেন মাত্র ৯১ বলে ৯৩ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন, যার ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর দ্রুত ৪০০ পেরিয়ে যায়। কুলদীপের বলে আউট হওয়ার আগে জানসেন যে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে গেছেন, তা প্রোটিয়াদের স্কোরকে উঁচু করে তুলতে বড় ভূমিকা রাখে। বোলারদের মধ্যে কুলদীপ চারটি (১১২/৪) এবং বুমরাহ, সিরাজ ও জাদেজা প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।
ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে এই মুহূর্তে আলোচনায় ঋষভ পন্থের অধিনায়কত্বের কৌশল। দক্ষিণ আফ্রিকার ৬টি উইকেট পড়ে যাওয়ার পরেও, ভারতীয় অধিনায়ক রক্ষণাত্মক ফিল্ডিং সাজানোয় বিশেষজ্ঞ মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, জানসেন যখন বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন, তখন কেন আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং ও বোলারদের সঠিক ব্যবহার করা হয়নি। সিরিজে ০-১ পিছিয়ে থাকা ভারতের জন্য এই বড় লিড এখন জয়ের রাস্তা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যদি ম্যাচ ড্র হয়, তবে ঘরের মাঠে টানা দ্বিতীয়বার সিরিজ হারবে টিম ইন্ডিয়া।
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪৮৯ (মুথুস্বামী ১০৯, জানসেন ৯৩, কুলদীপ ১১২/৪) ভারত: ৯/০ (যশস্বী ৭*, রাহুল ২*)







