লিওনেল মেসিকে একবার কাছ থেকে দেখার জন্য কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘ ১৪ বছরের অপেক্ষার পরিসমাপ্তি ঘটল এক ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে। শনিবার সল্টলেক যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ‘গোট ট্যুর’-এর ইভেন্টটিকে ঘিরে যে উন্মাদনা ছিল, তা শেষ হলো তীব্র হতাশা ও হাঙ্গামার ঘটনায়। মেসি মাত্র ১০ মিনিটের জন্য মাঠে উপস্থিত থাকার পরই স্টেডিয়াম কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়।
স্টেডিয়ামের অব্যবস্থাপনার কারণে চড়া মূল্যে টিকিট কেটেও (৫,০০০ টাকা থেকে ২৫,০০০ টাকা) অসংখ্য ভক্ত তাদের প্রিয় তারকাকে ঠিকভাবে দেখতে পাননি। মেসি যখন মাঠে এসেছিলেন, তখন তাঁকে ঘিরে ধরেছিলেন শত শত নিরাপত্তা কর্মী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তি। ফলে ভিড়ের আড়ালে তিনি প্রায় অদৃশ্যই ছিলেন।
মেসির এই অতি-সংক্ষিপ্ত বিদায়ের পরই দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভের বাঁধ ভাঙে। “প্রতারণা,” “স্ক্যাম” বলে চিৎকার শুরু করেন তাঁরা। ক্ষুব্ধ জনতা চেয়ার, বোতল, এবং ভাঙা আসনের অংশবিশেষ ছিঁড়ে মাঠে ছুঁড়তে শুরু করে। বিভিন্ন জায়গায় থাকা অস্থায়ী প্যাভিলিয়নগুলিও ভেঙে ফেলা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঠে নামানো হয় র্যাফ (RAF)-কে।
এই ঘটনার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক বিবৃতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি লিওনেল মেসির কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়ে নেন এবং গোটা ঘটনার জন্য ‘পরিকল্পনার অভাব’ ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন। মুখ্যমন্ত্রী অবিলম্বে এই বিশৃঙ্খলার কারণ জানতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ভক্তরা এখন হায়দরাবাদ, মুম্বই ও দিল্লি-তে হতে যাওয়া মেসির পরবর্তী ইভেন্টগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন।







