বিজয় হাজারে ট্রফির শুরুতেই এক অবিশ্বাস্য জয়ের সাক্ষী থাকল বাংলার ক্রিকেট ভক্তরা। রাজকোটে বিদর্ভের রান পাহাড় টপকে ইতিহাস গড়ল অভিমন্যু ঈশ্বরণের দল। ৩৮৩ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭ বল বাকি থাকতেই ৩ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল বাংলা। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে রান তাড়া করার ক্ষেত্রে এটিই এখন বাংলার রেকর্ড জয়।
এদিন টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেয় বিদর্ভ। শুরুতেই যশ রাঠোড়কে (১১) ফিরিয়ে বাংলাকে আশা জাগিয়েছিলেন মহম্মদ শামি। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দ্বিতীয় উইকেটে আমন মোখাদে ও ধ্রুব শোরে বাংলার বোলারদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা শুরু করেন। দুজনে মিলে গড়েন ১৯৫ রানের এক বিশাল পার্টনারশিপ। আমন ৯৯ বলে ১১০ রান করে আউট হলেও ধ্রুব শোরে একদিক ধরে রেখে ১৩৬ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন। শেষ দিকে নচিকেত ভুতের ঝোড়ো ক্যামিওতে ভর করে ৫ উইকেটে ৩৮২ রান তোলে বিদর্ভ। বাংলার বড় নামজাদা বোলাররা এদিন বেশ মার খেয়েছেন। শামি ও আমির গনি ২টি করে উইকেট পেলেও আকাশ দীপ বা মুকেশ কুমাররা ছিলেন উইকেটশূন্য।
৩৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করা যে কোনো দলের জন্য হিমালয় জয়ের মতো। কিন্তু বাংলার দুই ওপেনার অভিষেক পোড়েল ও অভিমন্যু ঈশ্বরণ শুরু থেকেই পালটা লড়াই শুরু করেন। ওপেনিং জুটিতেই উঠে আসে ১০৩ রান। অভিষেক ৫৬ করে আউট হলেও অধিনায়ক অভিমন্যু ৭১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। মাঝে সুদীপ ঘরামি (৬৮) ও অনুষ্টুপ মজুমদার (৩৩) রান পেলেও হঠাত করে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলা। একসময় ২৭৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, তখনই রুখে দাঁড়ান শাহবাজ আহমেদ।
বোলিংয়ে এদিন সুবিধা করতে না পারলেও ব্যাটিংয়ে আসল কাজটা করে দিলেন শাহবাজ। ৫৮ বলে তাঁর ৭১ রানের লড়াকু ইনিংস আর আকাশ দীপের ঝোড়ো ৩৮ রান বাংলাকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়। রুদ্ধশ্বাস এই ম্যাচে শেষ হাসি হাসে লাল-হলুদ জার্সিধারীরাই। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন শাহবাজ আহমেদ। দিনের অন্য ম্যাচে আরও এক নাটকীয়তা দেখা গেছে। ঈশান কিষানের মাত্র ৩৯ বলে ১২৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের পরেও হারতে হয়েছে ঝাড়খণ্ডকে। ময়াঙ্ক আগরওয়ালের কর্ণাটক ঈশানদের ৪১২ রানের পাহাড় অনায়াসেই টপকে জয় ছিনিয়ে নেয়।







